ভারতের এক ডাক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই আরেকটি ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা সামনে এলো। এবার ভুক্তভোগী হলেন একজন নার্স। উত্তরাখণ্ডের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফেরার সময় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন তিনি। এ ঘটনার ৯ দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই খবর জানিয়েছে।
৩০ জুলাই সন্ধ্যায় হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন ভোক্তভুগী ওই নার্স। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে রুদ্রপুরের ইন্দ্রা চক থেকে একটি ইলেকট্রনিক রিকশা নিয়ে যেতে দেখা গিয়েছিল। তবে ওইদিন রাতে উত্তরপ্রদেশের বিলাসপুরের কাশিপুর রোডে তার বাসায় পৌঁছাননি তিনি। ওই বাসায় ১১ বছর বয়সী মেয়ে শিশুর সঙ্গে বসবাস করতেন।
পরদিন থানায় একটি নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বোন। এর আট দিন পর ৮ আগস্ট ডিবডিবা গ্রামে তার বাড়ি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে একটি খালি বাড়িতে ভুক্তভোগীর মরদেহ খুঁজে পায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।
পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং অভিযুক্তদের খোঁজে একটি দল গঠন করে। ভুক্তভোগীর চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধার করে তারা অভিযুক্ত ধর্মেন্দ্রের বিষয়ে তথ্য পায়। এর পর বুধবার রাজস্থান থেকে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি উত্তরপ্রদেশের বেরেলির একজন দিনমজুর।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রাতে ধর্মেন্দ্র ভুক্তভোগীকে অনুসরণ করেছিলেন। আবাসিক ভবনে প্রবেশ করার সময় ওই নারর্সের ওপর ঝাপিয়ে পরে সে। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি তখন মাতাল ছিলেন।
উধম সিং নগরের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ মঞ্জুনাথ টিসি বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে কাছের একটি ঝোপে টেনে নিয়ে যান। এর পর তারই ওড়না ব্যবহার করে তাকে ধর্ষণ শেষে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।’
এরপর অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি ভুক্তভোগীর ফোন ও তার পার্স থেকে ৩ হাজার রুপি চুরি করে বলে জানায় পুলিশ।
এই ঘটনাটি এমন সময় প্রকাশ্যে এলো যখন কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে একজন নারী শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ইতোমধ্যেই উত্তাল ভারত। গত সপ্তাহে সরকারি হাসপাতালের সেমিনার হলে ৩১ বছর বয়সী ওই নারীর অর্ধনগ্ন দেহ পাওয়া যায়।
নৃশংস এই ঘটনা কর্মক্ষেত্রে ডাক্তারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চিকিৎসা কর্মীদের ওপর হামলা রোধে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন পাশ করার দাবিতে এখন সারাদেশে ধর্মঘট করছেন চিকিৎসকরা।








