বছরের পর বছর ধরে ঝুলে রয়েছে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি। এতে কোনও দেশেরই লাভ হচ্ছে না উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত এই চুক্তির বিষয়ে মতপার্থক্য দূর করার উপায় নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করবে অন্তর্বর্তী সরকার। ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন ড. ইউনূস। শুক্রবার (৬ এপ্রিল) পিটিআইয়ের ওয়েবসাইটে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে।
ঢাকায় নিজের সরকারি বাসভবনে পিটিআইকে সাক্ষাৎকারটি দিয়েছেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'দুই দেশের মধ্যে পানিবণ্টনের বিষয়টি অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হতে হবে।' এর কারণ হিসেবে বাংলাদেশের মতো ভাটির দেশগুলোর সুনির্দিষ্ট অধিকার বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, ‘ইস্যুটি (পানিবণ্টন) নিয়ে বসে থাকার ফলে এটা কোনও কাজে আসছে না। আমি যদি জানি যে আমি কতটুকু পানি পাবো, তাহলে ভালো হতো। এমনকি পানির পরিমাণ নিয়ে যদি আমি খুশি নাও হই, তাতেও সমস্যা নেই। বিষয়টির সমাধান হতেই হবে।’
তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়টি সমাধানে অন্তর্বর্তী সরকার ভারতকে চাপ দেবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, 'নতুন সরকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে। ‘চাপ দেওয়া’ শব্দটি অনেক বড়। আমি এই কথা বলছি না। আমরা আলোচনা করবো। তবে আমাদের একসঙ্গে বসে সমস্যার সমাধান করতে হবে।’
২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর অনেকটা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তার রাজ্যে পানি সংকটের কথা উল্লেখ করে এই চুক্তিকে অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে তখন আর চুক্তি হয়নি। এখন এটি সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন ড. ইউনূস ।
পিটিআইকে তিনি বলেন, ‘এটা নতুন কোনও ইস্যু নয়, বরং খুবই পুরোনো বিষয়। আমরা বিভিন্ন সময় এ বিষয়ে কথা বলেছি। পাকিস্তান শাসনামল থেকেই এ নিয়ে আলোচনা শুরু।’
ড. ইউনূস আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই এই ইস্যুটির সমাধান করতে হবে। ভাটির দেশগুলোর নির্দিষ্ট কিছু অধিকার রয়েছে। আমরা সেই অধিকার চাই।’
বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতি এবং এই বন্যার জন্য ভারতকে দায়ী করে ঢাকা থেকে সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত খবর প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, 'চুক্তি সই না হওয়া পর্যন্ত এমন সংকট মোকাবিলায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা যেতে পারে।'
দুই দেশের মধ্যে এমন সমন্বয়ের জন্য চুক্তির প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে নোবেলবিজয়ী এই অধ্যাপক বলেন, ওই সময় যখন ভারতের হাইকমিশনার আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন, তখন তাকেও একই কথা বলেছিলাম।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পানিসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সম্প্রতি পিটিআইকে বলেছেন, তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে আলোচনা আবারও শুরু করার জন্য চাপ দেবে ঢাকা। উজান ও ভাটির দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশ-দুই দেশকেই আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি অনুসরণ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পানিসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টার এমন মন্তব্যের কয়েক দিন পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই বক্তব্য দিলেন।








