ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আন্দোলনরত চিকিৎসকদের মঙ্গলবারের মধ্যে কাজে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে। গত মাসে এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে দেশজুড়ে কর্মবিরতিতে থাকা চিকিৎসকদের এ সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) আদালত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজে না ফিরলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এক শ্রেণিকক্ষে ৯ আগস্ট ওই নারী চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি সেখানে প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ডের পর থেকে শত শত চিকিৎসক কাজ বন্ধ রেখে বিচার দাবি করছেন।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক পুলিশ স্বেচ্ছাসেবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় পুলিশ গত সপ্তাহে জানিয়েছে, কলেজটির সাবেক অধ্যক্ষকেও দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
চিকিৎসকরা শুধু হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারই নয়, সরকারি হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্মীদের বিশ্রামের সুযোগ-সুবিধার উন্নতিও দাবি করছেন। তারা অভিযোগ করেন, হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা ও মৌলিক অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট সোমবার জানিয়েছে, মঙ্গলবারের মধ্যে কাজে ফিরলে কোনও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রতিকূল ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। আদালতের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বে গঠিত তিন বিচারকের বেঞ্চ মন্তব্য করেন, চিকিৎসকরা তাদের সেবামূলক দায়িত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন না।
আদালত পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে চিকিৎসকদের উদ্বেগ দূর করার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ও নারী কর্মীদের জন্য পৃথক বিশ্রাম কক্ষ ও শৌচাগারের ব্যবস্থা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে ২৫টি দেশের ১৩০টি শহরে প্রবাসী ভারতীয়রাও বিক্ষোভ করেছেন। জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি আমলে নিয়ে হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছিল। নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই ঘটনা ভারতে নারীদের প্রতি চলমান যৌন সহিংসতার বিষয়টিকে আরও একবার সামনে এনেছে, যদিও ২০১২ সালে দিল্লিতে চলন্ত বাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।









