ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলে সুপার টাইফুন ইয়াগির আছড়ে পরার কয়েকদিন পর রাজধানী হ্যানয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। লাল নদীর পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইয়াগির আঘাতে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
চলতি বছরের এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন ইয়াগি। এটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের দ্বিতীয় শক্তিশালী টাইফুনও। টাইফুনটি শনিবার উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলে আছড়ে পরার পর পশ্চিম দিকে সরে যাওয়ার সময় ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। চলতি সপ্তাহে হং নদীর পানি বেড়ে তীরবর্তী রাজ্যগুলোতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। একটি সেতুও ভেঙ্গে গেছে।
হ্যানয়ের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী ট্রান লে কুয়েন রয়টার্সকে বলেন, ‘৩০ বছরের মধ্যে আমার দেখা সবচেয়ে খারাপ বন্যা এটি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল সকালেও সব শুকনো ছিলো। এখন পুরো রাস্তা ডুবে আছে। গত রাতে আমরা ঘুমাতে পারিনি।’
সরকারের অনুমান, টাইফুন এবং পরবর্তী ভূমিধস ও বন্যায় ১৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় নিখোঁজ হয়েছেন আরও ১৪০ জন।
সরকার ও রাষ্ট্রীয় মিডিয়া জানিয়েছে, হ্যানয়ের কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুরো সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে নিচু এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দাকে।
লাল নদীর তীরবর্তী একটি এলাকায় বসবাস করেন ৫৬ বছর বয়সী নগুয়েন ভ্যান হাং। তিনি বলেছেন, ‘আমার বাড়ি এখন নদীর অংশ হয়ে গেছে।
কর্তৃপক্ষ বন্যার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করার পর মঙ্গলবার শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি দাতব্য সংস্থা ব্লু ড্রাগন চিলড্রেনস ফাউন্ডেশনকে তাদের অফিস খালি করতে হয়েছিল।
নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী কয়েক ডজন শিশু ও পরিবার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখপাত্র কার্লোটা টরেস লিরো। তিনি বলেছেন, ‘লোকজন উন্মত্তভাবে চলাফেরা করছিলো। তারা মোটরবাইক সরিয়ে নিচ্ছিলো। জিনিসপত্র স্থানান্তর করছিলো।’








