পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ব্লাসফেমি বা ধর্ম অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত এক চিকিৎসক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো। তবে পুলিশ দাবি করছে, ওই চিকিৎসক ‘ঘটনাক্রমে’ নিহত হয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাকিস্তানে তিনি দ্বিতীয় সন্দেহভাজন ব্যক্তি যাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
সিন্ধু প্রদেশের এক স্থানীয় পুলিশ প্রধান নিয়াজ খোসোর বলেছেন, ড. শাহনওয়াজ কানভার পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ‘ঘটনাক্রমে’ নিহত হন। এ সময় তারা জানতেন না যে, ধর্ম অবমাননার দায়ে যাকে তারা খুঁজছিলেন তিনিই সেই ব্যক্তি ছিলেন।
ড. শাহনওয়াজের বিরুদ্ধে নবী মুহাম্মদকে (সা:) অবমাননা করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণামূলক প্রচারের অভিযোগ ছিল। তিনি মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন।
পুলিশের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার একটি মোটরসাইকেলে আরোহী দুই ব্যক্তিকে তল্লাশির জন্য তাদের গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেছিলেন মিরপুর খাস শহরের কর্মকর্তারা। এসময় তাদের কথা না শোনে বরং আরোহীদের একজন পুলিশের ওপর গুলি চালায়। তখন পাল্টা গুলি করে পুলিশ। এসময় শাহনওয়াজ নিহত হন।
স্থানীয় পুলিশ প্রধান নিয়াজ আরও জানান, গোলাগুলির ঘটনার পরই পুলিশ জানতে পারে, যে ব্যক্তির গায়ে গুলি লেগেছে তিনিই ড. শাহনওয়াজ। মোটরসাইকেলে থাকা দ্বিতীয় ব্যক্তি পালিয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।
খাস আসাদ চৌধুরী নামে আরেক পুলিশ কর্মকর্তা বিবিসি উর্দুকে বলেছেন, ড. শাহনওয়াজ দুর্ঘটনাক্রমে মোটরসাইকেলে থাকা তার সঙ্গীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। তবে, ড. শাহনওয়াজের এক আত্মীয় বিবিসি উর্দুকে বলেছেন, তাকে একটি ‘সাজানো এনকাউন্টারে’ হত্যা করা হয়েছে। তবে স্থানীয় পুলিশ এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সিন্ধু প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়া-উল-হাসান লিঞ্জার ড. শাহনওয়াজের মৃত্যুর বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কোয়েটার একটি পুলিশ স্টেশনের ভিতরে এক পুলিশের গুলির চালানোর ঘটনার এক সপ্তাহ পর ড. শাহনওয়াজের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি সামনে এলো। ওই ঘটনায় পুলিশের গুলিতে ব্লাসফেমির অভিযোগে আটক আরেক সন্দেহভাজন মারাত্মকভাবে আহত হন।
ড. শাহনওয়াজকে গুলি করে হত্যা করার একদিন পরই নিকটবর্তী উমেরকোটে ইসলামপন্থিরা তাকে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ করছিল এবং তার ক্লিনিক পুড়িয়ে দিয়েছিল।
বিবিসি উর্দুকে তার স্বজনরা বলেছেন, স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মকর্তারা তাদের অবরুদ্ধ করে ফেলে। এতে মৃতদেহ দাফনের জন্য তাদের মাইলের পর মাইল ভ্রমণ করতে হয়েছিল।
পাকিস্তানে জনতার হাতে ধর্ম অবমাননাকারী সন্দেহভাজনদের হত্যা করা সাধারণ ঘটনা হলেও পুলিশের হাতে এই ধরনের হত্যাকাণ্ড বিরল।
পাকিস্তানের ব্লাসফেমি আইনের অধীনে, ইসলাম বা ইসলামিক ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের অবমাননার জন্য দোষী সাব্যস্ত যে কেউ মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। তবে কর্তৃপক্ষ এখনও ধর্ম অবমাননার দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারেনি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে অম্য অবমাননাকারী সন্দেহভাজনদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে।








