পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে মারাত্মক ধোঁয়াশার কারণে শুক্রবার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। নির্মাণ কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, স্কুল বন্ধ রাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন ক্লাস চালু করার পাশাপাশি বৃষ্টির জন্য নামাজ আদায় করেছেন লাখো মানুষ। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
প্রাদেশিক ধর্ম বিষয়ক দফতরের মুখপাত্র তালহা মাহমুদের মতে, ইস্তিসকা নামাজ নামক এই বিশেষ নামাজটি প্রায় ৬০০ সরকারি মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। এটি একটি স্বেচ্ছায় আদায়কৃত নামাজ। যা সাধারণত দুর্যোগের সময় বৃষ্টির জন্য দোয়া হিসেবে আদায় করা হয়।
লাহোরের একটি মসজিদে নামাজ পরিচালনাকারী মোহাম্মদ ইজাজ বলেন, আজ আমরা বৃষ্টির জন্য এবং ধোঁয়াশা কমানোর জন্য দোয়া করেছি। যদিও এটি মানুষের নিজেদের ভুলের ফল। এই নামাজের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়েছি।
পাকিস্তানের সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ পাঞ্জাব প্রতি বছর শীতকালে ধোঁয়াশার মুখে পড়ে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বায়ুদূষণ আরও খারাপ আকার ধারণ করেছে। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ধুলোবালির শীতল বাতাসে আটকে থাকা, নিম্নমানের ডিজেল ব্যবহারের ধোঁয়া এবং কৃষি জমিতে অবৈধভাবে ফসলের নাড়া পোড়ানো।
পরিবেশ দফতরের মুখপাত্র সাজিদ বশির জানান, এ বছরের দূষণের প্রধান কারণ সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে বৃষ্টির অভাব। গত বছর বৃষ্টির কারণে কণার ঘনত্ব কমে গিয়েছিল। তবে এ বছর আমরা এখনও অপেক্ষা করছি।
সুইস প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার -এর তথ্যানুসারে, পাঞ্জাবের প্রধান শহর লাহোর গত সপ্তাহের বেশির ভাগ সময় বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে।
পাঞ্জাবের সিনিয়র মন্ত্রী মরিয়ম আওরঙ্গজেব শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ধোঁয়াশা কমানোর পদক্ষেপ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, লাহোর ও মুলতানে নির্মাণ কাজ, ইটভাটা এবং চুল্লিভিত্তিক কারখানা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী শুক্রবার থেকে তিন দিনের সম্পূর্ণ লকডাউন কার্যকর করা হবে।
গত সপ্তাহে প্রদেশের স্কুলগুলো ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। শুক্রবার এই সময়সীমা আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও বন্ধ থাকবে এবং ভার্চুয়াল ক্লাস চালু হবে।
ইতোমধ্যে পার্ক, চিড়িয়াখানা, খেলার মাঠ এবং অন্যান্য জনসমাগমস্থলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিবেশী ভারতের ধোঁয়া ও দূষণ তাদের বায়ুমানের অবনতিতে ভূমিকা রাখছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য অংশেও উচ্চ মাত্রার বায়ু দূষণের প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত রাজধানী শহর হিসেবে পরিচিত ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি শুক্রবার থেকে অপ্রয়োজনীয় নির্মাণ কাজ নিষিদ্ধ করেছে। এছাড়া, শিশুদের ভার্চুয়াল ক্লাসে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের কয়লা এবং কাঠ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।









