চীনের অন্যতম বৃহত্তম সামরিক ড্রোন নির্মাতা চায়না একাডেমি অব অ্যারোস্পেস অ্যারোডাইনামিকস একটি নতুন উন্নত যুদ্ধ-ড্রোন তৈরি করেছে, যার নাম সিএইচ-৯।
চায়না অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কর্পোরেশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেইজিং-ভিত্তিক ওই একাডেমির মতে, সিএইচ-৯ হলো সিএইচ বহরের নতুন সদস্য—যার অর্থ ছাইহোং বা রংধনু। এটি লম্বায় ১২ মিটার। দুই ডানার দূরত্ব প্রায় ২৫ মিটার। এ সিরিজের আগের ড্রোনের চেয়ে এর ধারণক্ষমতাও বেশি। অস্ত্র লোড করা হলে সাড়ে ১১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে সক্ষম সিএইচ-৯। একটানা ৪০ ঘণ্টা পর্যন্ত ভেসে থাকতে পারবে বলেও জানিয়েছে অ্যারোস্পেস অ্যারোডায়নামিকস।
টার্বোপ্রপ ইঞ্জিন দ্বারা চালিত ড্রোনটির সর্বোচ্চ টেকঅফ ওজন ৫ মেট্রিক টন। এর পাখার নিচে আটটি আগ্নেয়াস্ত্রের প্যানেল আছে। এয়ার-টু-এয়ার এবং অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, বোমা, টর্পেডো এবং লোটারিংসহ মোট ৪৯০ কেজি গোলাবারুদ বহন করতে সক্ষম এটি।
রিয়েল টাইমে যুদ্ধক্ষেত্রে নিজে থেকে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করতে পারবে সিএইচ-৯। নিজে থেকেই লক্ষ্য শনাক্ত করে ফ্লাইট রুট সমন্বয় করতে পারে এটি।
সিএএইচ-৯ প্রকল্পের প্রকৌশলী সোং ফাংচাও বলেছেন, নজরদারি, পুনরুদ্ধার এবং আক্রমণ ছাড়াও, ড্রোনটি প্রাথমিক কিছু সতর্কতামূলক কাজও করতে পারবে। এটি তার পূর্বসূরীদের চেয়ে বড় এবং এটি বৈচিত্র্যময় মিশন পরিচালনা করতে সক্ষম।
১৯৯৯ সালে বেইজিং একাডেমি সিএইচ ড্রোন নিয়ে গবেষণা শুরু করে। পরে ২০০৩ সাল থেকে বিদেশি সামরিক বাহিনীতে যুদ্ধ ড্রোন রপ্তানি শুরু করে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার ১০টিরও বেশি দেশে সিএইচ ড্রোন বিক্রি করেছে চীন।
সোং বলেছেন, সিএইচ-সিরিজের ড্রোনগুলোকে বিদেশি ক্লায়েন্টরা সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানের ধারালো অস্ত্র বলে অভিহিত করেছে।
সূত্র: সিএমজি









