লিমায় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপিইসি) ফোরামে তাইওয়ানের প্রতিনিধি লিন সিন-ই বলেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে তিনি শুধু হাত নাড়িয়ে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। তবে তার সঙ্গে হাত মেলাননি, কিংবা তাদের মধ্যে কোনও কথোপকথনও হয়নি। শনিবার (১৬ নভেম্বর) একটি সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান লিন। এই ঘটনাকে তাইপেই ও বেইজিংয়ের মধ্যকার উত্তেজনার লক্ষণ হিসেবে দেখেছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
এবারের এপিইসি সম্মেলনে তাইওয়ান অংশ নিলেও চীনের আপত্তির কারণে দেশটির প্রেসিডেন্টকে শীর্ষ এই সম্মেলনে পাঠায়নি।
২০২২ সাল থেকে চার দফা যুদ্ধ মহড়াসহ বেইজিংয়ের বর্ধিত সামরিক চাপের মুখোমুখি হয়েছে তাইওয়ান। বেইজিং দ্বীপরাষ্ট্রটিকে নিজস্ব ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে। তবে তাইওয়ানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
দ্বন্দ্ব সত্ত্বেও তাইওয়ান ও চীন উভয়ই যে কয়েকটি আন্তর্জাতিক বৈঠকে অংশ নেয় সেগুলোর একটি এই ফোরাম। এতে উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা একে অপরের সঙ্গে কথোপকথন করতে পারে। এমনকি, শুধু আনন্দও ভাগাভাগির উদ্দেশে হলেও।
একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় সরকার-সমর্থিত বিনিয়োগ তহবিল তাইওয়ানিয়া ক্যাপিটালের চেয়ারম্যান ও একজন সাবেক অর্থমন্ত্রী লিন বলেন, অনেক এপিইসি সদস্যদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সময় শিকে শুধু হাত নাড়িয়ে অভিবাদন জানানো হয়েছে।
তাদের মধ্যে কোনও আলাপ হয়েছে কি-না জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘অভিবাদনের বিষয়ে বিস্তারিত বলার মতো কিছু নেই।’
তিনি বলেছিলেন, চীনা নেতার সঙ্গে করমর্দনও করেননি তিনি।
তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থনকারী ও অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ১৯৭৯ সালে বেইজিংয়ের পক্ষে তাইপেইয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল ওয়াশিংটন।
গত বছর চিপ জায়ান্ট টিএসএমসির প্রতিষ্ঠাতা ও তাইওয়ানের প্রতিনিধি মরিস চ্যাং বাইডেনের সঙ্গে কথা বললেও শির সঙ্গে কোনও প্রকার আলাপ করেননি।
তবে ২০২২ সালে ৯১ বছর বয়সী চ্যাং ব্যাংককের এপিইসি ফোরামে শির সঙ্গে ‘স্বানন্দে’ ও ‘উষ্ণ’ আলাপ করেছিলেন। তখন শি চ্যাংয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে জানতে চেয়েছিলেন এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম সাফল্যের জন্য শিকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন চ্যাং।








