রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংকট নিরসনে ১৯৬৩ সালে কথিত একটি হটলাইন প্রতিষ্ঠা করেছিল দেশগুলো, যেটির অধীনে যে কোনও সংকট নিরসনে উভয় দেশের নেতারা সরাসরি আলাপ করতে পারবেন। তবে সেই ‘বিশেষ হটলাইন’ সুবিধা এখন আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। বুধবার (২০ নভেম্বর) রুশ বার্তা সংস্থা আরআইকে দেওয়া একটি সাক্ষাতকারে এই তথ্য জানিয়েছে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
শীতল যুদ্ধের পর কয়েক দশকের মধ্যে রাশিয়া ও পশ্চিমের মধ্যকার সর্বোচ্চ উত্তেজনার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি বৃদ্ধির মধ্যে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এমন মন্তব্য এলো।
ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে আঘাত হানার জন্য ওয়াশিংটন মার্কিন তৈরি অস্ত্র ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে—এমন খবর প্রচার হওয়ার কয়েকদিন পর, মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রথাগত হামলার বিস্তৃত পরিসরের প্রতিক্রিয়ায় পারমাণবিক হামলার জন্য নীতির পরিসীমা কমিয়েছেন।
যুদ্ধের এক হাজারতম দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিদায়ী প্রশাসনের কাছ থেকে সদ্য অনুমোদিত এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র সুবিধা ব্যবহার করে মঙ্গলবার রুশ ভূখণ্ডের গভীরে হামলা করেছে ইউক্রেন।
১৯৬২ সালে কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকটকে ঘিরে ভুল ধারণা প্রশমনের জন্য, ১৯৬৩ সালে মার্কিন ও রুশ নেতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগে অনুমতি দিয়ে মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি তথাকথিত হটলাইন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।
রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ –কে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ‘দুই প্রেসিডেন্ট, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগের জন্য আমাদের একটি বিশেষ সুরক্ষিত লাইন রয়েছে। এমনকি ভিডিওকলে যোগাযোগের জন্যও।’ তবে এই চ্যানেলটি বর্তমানে চালু রয়েছে কি-না জানতে চাইলে জবাবে তিনি বলেন, ‘না।’
মস্কো বলেছে, পশ্চিমারা যে সংঘাত বাড়াতে চেয়েছিল তার একটি স্পষ্ট সংকেত হলো ইউক্রেনে ওয়াশিংটনের দূরপাল্লার এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সর্বাত্মক হামলা চালায় রাশিয়া। এই যুদ্ধে শত শত ইউক্রেনীয় শহর ও গ্রামকে ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছে রুশ বাহিনী। এতে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। নিহত হয়েছেন হাজার হাজার বেসামরিক যাদের অধিকাংশই ইউক্রেনীয়।
দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তার ন্যাটো মিত্রদের কাছে দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে অনুরোধ করে আসছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছিলেন, রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টার জন্য ব্যবহৃত সামরিক ও পরিবহন অবকাঠামো ধ্বংস করার জন্য তাদের দূরপাল্লার অস্ত্র প্রয়োজন।
মস্কো বলেছিল, এই ধরণের অস্ত্র মার্কিন সামরিক বাহিনীর সরাসরি সমর্থন ছাড়া চালু করা যাবে না এবং তাদের ব্যবহার করা হলে এটিকে যুদ্ধে ওয়াশিংটনের সরাসরি অংশগ্রহণ বলে বিবেচনা করবে রাশিয়া, যা তাদের প্রতিশোধের প্ররোচনা দেবে।
রুশ কূটনীতিকরা বলছেন, মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার বর্তমান সংকটকে ১৯৬২ সালের কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। তখন শীতল যুদ্ধের দুই পরাশক্তি ইচ্ছাকৃত পারমাণবিক যুদ্ধের কাছাকাছি এসেছিল। তিনি আরও বলেন, পশ্চিমারা ভুল করছে, যদি তারা মনে করে রাশিয়া ইউক্রেন থেকে পিছু হটবে।
ক্রেমলিন বলেছে, পারমাণবিক অস্ত্রকে প্রতিরোধের উপায় বলে মনে করে রাশিয়া। দেশটির পারমাণবিক নীতির আপডেট করা মতবাদে উদ্দেশ্য ছিল, রাশিয়া ওপর আক্রমণ করা হলে প্রতিশোধ যে অনিবার্য সম্ভাব্য শত্রুদের তা স্পষ্ট করা।
বুধবার পেসকভ আরআইএকে বলেছিলেন, কিয়েভকে মার্কিন তৈরি অস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার গভীরে আঘাত করার অনুমতি দিয়ে ক্রেমলিনের কৌশলগত পরাজয় ঘটাতে চাইছে পশ্চিম।
পেসকভ বলেছিলেন, ‘অবশ্যই তারা এই লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য ইউক্রেনকে তাদের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।’








