ইসলামাবাদ সীমান্তে পিটিআইয়ের একটি মিছিল প্রবেশ করার সময় সোমবার হাকলা ইন্টারচেঞ্জে কর্তব্যরত এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। পাঞ্জাব পুলিশ জানিয়েছে, উচ্ছৃঙ্খল কর্মীদের হামলায় ওই কনস্টেবল প্রাণ হারান। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এ খবর জানিয়েছে।
পাঞ্জাব পুলিশের এক্স-এ পোস্টে জানানো হয়, মুজাফফরগড় পুলিশ কনস্টেবল মোহাম্মদ মুবারিশ বিলাল দাঙ্গা-সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন। পরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পাঞ্জাব পুলিশের প্রধান ড. উসমান আনোয়ার কনস্টেবল বিলালের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তার পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
ড. আনোয়ার বলেন, দেশের সংবিধান ও আইন রক্ষায় পাঞ্জাব পুলিশ সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।
এদিকে, সরকারপ্রধান শাহবাজ শরিফ কনস্টেবলের মৃত্যুকে নিন্দনীয় বলে অভিহিত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের নামে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা নিন্দনীয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি কনস্টেবল বিলালকে শহীদ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দাঙ্গাকারীরা ন্যায্য বিচারের সম্মুখীন হবে।
‘প্রতিবাদ ছিল শান্তিপূর্ণ’
পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক ওয়াকাস আকরাম সরকারের দাবিকে ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, পিটিআই কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে ইসলামাবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। পুলিশ হামলার জন্য দায়ী হলে এর পুরো দায় তাদেরই বহন করতে হবে।
পিটিআই নেতা শওকত ইউসুফজাই জানান, খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে মিছিল ইসলামাবাদে প্রবেশ করেছে। তিনি বলেন, পুলিশের বাধা সত্ত্বেও আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।
বুশরা বিবির আহ্বান
পিটিআই নেতা ও ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবি এক ভিডিও বার্তায় ইসলামাবাদ অভিমুখী মিছিলে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ইমরান খান মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা
সরকার জানিয়েছে, ইসলামাবাদে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর আগমনের আগে এমন প্রতিবাদ পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকভি বলেন, ইসলামাবাদে প্রবেশের চেষ্টা করা হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজধানীর রেড জোন পুরোপুরি সিল করে দেওয়া হয়েছে। মোবাইল পরিষেবা সচল থাকলেও ইন্টারনেট অচল।
সংঘর্ষ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
পিটিআই কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের একাধিক জায়গায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। আক্রমণকারীরা একটি টোল বুথ এবং একটি ভ্যান পুড়িয়ে দেয়।
সরকার বলছে, পিটিআইয়ের এই কর্মসূচি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে এবং আন্তর্জাতিক সফরের সময় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। অন্যদিকে, পিটিআই দাবি করছে, তাদের আন্দোলন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি প্রয়াস।









