রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনের পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় কিয়েভের সরকারি মন্ত্রণালয়ে হামলার হুমকি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) তিসনি সতর্ক করে বলেন, নতুন ওরেশনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়া এই হামলা চলাতে সক্ষম। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টাসর্ এই খবর জানিয়েছে।
৩৩ মাসের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের সরকারি মন্ত্রণালয়, পার্লামেন্ট বা প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে আঘাত করেনি রাশিয়া।
কিয়েভের বিমান প্রতিরক্ষার মাধ্যমে সেগুলো ব্যাপকভাবে সুরক্ষিত। তবে পুতিন বলেছেন, ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্রকে সেগুলো আটকাতে পা্রবে না।গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো ইউক্রেনের একটি শহরে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল রাশিয়া।
কাজাখস্তানে একটি শীর্ষ সম্মেলনে সাবেক সোভিয়েত দেশগুলোর একটি নিরাপত্তা জোটের নেতাদের উদ্দেশে পুতিন বলেন, ‘অবশ্যই আমরা রাশিয়ার ভূখণ্ডে পশ্চিমা-নির্মিত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে চলমান হামলার জবাব দেব, সম্ভবত যুদ্ধে ওরশেনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়াসহ যেমনটি ২১ নভেম্বর করা হয়েছিল।’
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও জেনারেল স্টাফ এখন ইউক্রেনের ভূখণ্ডে আঘাত করার লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করছে। এগুলো হতে পারে সামরিক স্থাপনা, প্রতিরক্ষা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান বা কিয়েভের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কেন্দ্র।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পুতিনের ওরেশনিকের ‘প্রচারণা’কে যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করার কৌশল হিসেবে নিন্দা করেছেন, বিশেষ করে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
জেলেনস্কি রাতের নিয়মিত ভিডিও ভাষণে বলেন, ‘তিনি এই যুদ্ধের সমাপ্তি চান না। এছাড়া পুতিন অন্যদের যুদ্ধ শেষ করা থেকে বিরত রাখতে চান।’
ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘তিনি তার ওরেশনিক পরিচালনা করতে পারেন শুধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করার জন্য। পুতিন পরিস্থিতিকে এমন মাত্রায় বাড়িয়ে তুলতে চান যেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। যাতে তিনি যুদ্ধ শেষ করতে না পারেন।’
পুতিন বলেছিলেন, ইউক্রেনের ওপর রাতারাতি রাশিয়ার একটি বিশাল আক্রমণও কিয়েভের মার্কিন এটিএসিএমএস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রতিক্রিয়া ছিল।
জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া আক্রমণে ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্রসহ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এই হামলাকে তিনি ‘ঘৃণ্য বৃদ্ধি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতিকে আরও অসহনীয় করে তোলার ও যুদ্ধকে টেনে নেওয়ার রাশিয়ার প্রচেষ্টার’ বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে তিনি ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসসহ পশ্চিমা নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন।








