ট্রাম্পের অভিষেকের আগে তাইওয়ানসহ এশীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৯ নভেম্বর ২০২৪, ১৪:০৬আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৪, ১৪:০৬

২০ জানুয়ারি নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানের আগেই তাইওয়ানসহ এশীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন সাগরসহ অন্যান্য বিষয়ে মার্কিন-চীনা উত্তেজনা দেখা গেছে। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

৫ নভেম্বরের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ের দুই সপ্তাহের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়া সফর করছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন। তিনি সবাইকে এই বার্তাটিই দিতে চেয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র জোট ছাড়ছে না, আমেরিকার আঞ্চলিক মিত্ররা ওয়াশিংটনের সঙ্গে ও একে-অপরের মধ্যে সম্পর্ক দ্বিগুণ ঘনিষ্ঠ করছে এবং প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার স্থানান্তরের সময় চীনের তাইওয়ান আক্রমণ করা একটি খারাপ সময় হবে।

ট্রাম্পের জয়ের পর থেকে যদিও মিডিয়া সাধারণভাবে ইউরোপ ও ইউক্রেন ইস্যুটিতে বেশি আলোকপাত করছে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রাম্পের একটি শান্তি চুক্তির অঙ্গীকার, মার্কিন তৈরি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে ইউক্রেনের ওপর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পূর্ববর্তী বিধিনিষেধের প্রত্যাহার এবং ইউক্রেনের পূর্বে ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীল যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ আক্রমণকারী বাহিনীর অগ্রগতির বিষয়গুলো।

উদ্বেগের একটি বৃহত্তর ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে তেল-উৎপাদনকারী মধ্যপ্রাচ্যও। গ্রীষ্মের শেষ ও শরতের শুরুর দিকে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে গুরুতর উত্তেজনার আশঙ্কার মধ্যেই দুটি মার্কিন বিমানবাহী জাহাজ আটকে পড়েছিল।

তবে উভয় অঞ্চল নিয়ে ক্রমবর্ধমান আতঙ্ক সত্ত্বেও পেন্টাগন-এশিয়া নিয়ে একেবারে শীর্ষস্থানীয়দের মধ্যে বিশেষ উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৭ সাল নাগাদ তাইওয়ান আক্রমণের জন্য চীন ভালোভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দারা বলছে, চীনা নেতা শি জিনপিং দেশটির সামরিক বাহিনীকে ওই বছরের মধ্যেই দ্বীপরাষ্ট্রটি দখলের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এই ধরণের পদক্ষেপের আদেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনও নেননি তিনি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আরও মার্কিন-চীনা উত্তেজনা দেখা গেছে এবং আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও উত্তেজনা তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ জন্য প্রতিটি পক্ষই অব্শ্য একে-অপরকে দোষারোপ করছে। আর ২০ জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতা নেওয়ার পর সে প্রবণতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আপাতত এই উত্তেজনা রক্তপাতহীন থাকবে বলে মনে হলেও উভয় পক্ষের ভাবভঙ্গি দ্ব্যর্থহীনভাবে সামরিক শক্তি প্রদর্শন ও একটি বড় যুদ্ধে লড়াই করার বাস্তবসম্মত ক্ষমতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তাইওয়ানের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন সরকারের পালাবদল ও দেশটি প্রভাবের ক্ষেত্র প্রসারের সময় চীন ‘লাল রেখা টানতে ও ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার আশা করছে।’

এটি আসলেই করা সম্ভব কি-না তা নির্ধারণ করাই সম্ভবত বেইজিংয়ের জন্য একটি অগ্রাধিকারই হবে। চীন এটি বারবার স্পষ্ট করেছে, দেশটি চায় যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে তার অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ কমিয়ে আনুক।

এদিকে, বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতার শেষ সপ্তাহগুলো মিত্রদের সঙ্গে চুক্তিতে ব্যয় করছে, যা চীন আক্রমণের পথে এগিয়ে গেলে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।

অস্টিন উত্তর অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন পরিদর্শন করার সঙ্গে সঙ্গে ঘোষণা করা হয়েছিল, জাপানি সেনারা এখন অস্ট্রেলিয়ার সমকক্ষ এবং দেশটির ফিলিপাইনের পরের বছর মার্কিন নৌ বাহিনীর সঙ্গে প্রশিক্ষণ শুরু করবে।

পেন্টাগন ঘোষণা করেছে, জানুয়ারিতে এই প্রশিক্ষণ শুরুর সময় এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরী থাকবে।

এদিকে, ফিলিপাইনে অস্টিনের সফর একটি মার্কিন ‘টাস্ক ফোর্স-আয়ুঙ্গিন’ এর অস্তিত্বকেও নিশ্চিত করেছে। ফিলিপিনোরা বিতর্কিত দ্বিতীয় থমাস শোল অঞ্চলের জন্য এই নামটি ব্যবহার করে থাকে। এই অঞ্চলের দাবিদার বেইজিংও। চলতি বছর শোলে অঞ্চলে ফিলিপাইন থেকে ‘বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে’ নামের সাবেক মার্কিন অবতরণ জাহাজটি সরবরাহকারী জাহাজগুলোর পথ অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করেছিল চীনা টহল জাহাজ, যা নিয়ে বারবার সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।

অস্টিন আরও ঘোষণা করেন, এই সংঘর্ষে সহায়তার জন্য ফিলিপাইনে নতুন সামুদ্রিক ড্রোন সরবরাহ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাপানি মিডিয়া আউটলেট কিয়োডো প্রথমবারের মতো জানিয়েছিল, টোকিওর সঙ্গে তাইওয়ানের কাছে জাপানি ও ফিলিপিনো দ্বীপপুঞ্জে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি স্থাপনের জন্য কাজ করছে ওয়াশিংটান। একটি সম্ভাব্য চীনা আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সেগুলো সহায়তা করবে।

/এএকে/
সম্পর্কিত
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
বজ্রনিনাদে ভারতে বর্ষার প্রবেশ, কেরালাজুড়ে হচ্ছে ভারি বৃষ্টি
কী, কেন, কীভাবেপশ্চিমবঙ্গে যে কারণে তৃণমূলের ‘অপ্রত্যাশিত রক্ষাকর্তা’ খোদ বিজেপি
সর্বশেষ খবর
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান