আর জি কর হাসপাতালে ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায়ের অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে সোমবার আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলো কলকাতার শিয়ালদহ আদালত। নিহতের পরিবারকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ১৭ লাখ রুপি আর্থিক সাহায্য দিতে হবে। এমন নির্দেশও দিয়েছে আদালত। সঞ্জয় রায়ের ৫০ হাজার রুপি জরিমানাও করেন বিচারক।
আদালতে সওয়ালে নির্যাতিতার আইনজীবী বলেন, সব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে অভিযুক্তের আর জি কর হাসপাতালে যাতায়াত ছিল। তাকে আদালত দোষী সাব্যস্ত করেছে। সর্বোচ্চ সাজা চাইছি।
বিচারক বলেন, ‘চিকিৎসকের মৃত্যু সমাজের বড় ক্ষতি’। অতীতের বেশ কয়েকটি মামলার উদাহরণ টেনে সঞ্জয়ের আইনজীবী মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে বলেন, মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে নই, সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে।
সঞ্জয় এদিন বলে, পুলিশ ব্যারাকে থাকতাম। মায়ের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। আমি কিছু করিনি স্যার। আমাকে দোষী প্রমাণিত করা হয়েছে।
বিচারক বলেন, আমি ৩ ঘণ্টা সময় দিয়েছি শোনার জন্য। যা যা প্রমাণ এসেছে, আপনার চেয়ে ভালো কেউ জানে না। আমার কাছে যা যা এসেছে তার ওপর ভিত্তি করে আমি বিচার করতে পারি। আপনি যা বলেছেন সব রেকর্ড করা আছে। আমার মনে হয়েছে সব সঠিক। আমি জানাতে চেয়েছি শাস্তির বিষয়ে। আপনার বাড়িতে কে আছে? বাড়ির লোক যোগাযোগ করেছে?
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে সঞ্জয় বলে, আমি কিছু করিনি। সব কিছু সবাই দেখছে। আগের দিন বলেছি। আমাকে অত্যাচার করা হয়েছে। আমি এসব কিছুই জানতাম না। আমার গলায় রুদ্রাক্ষের মালা ছিল। তাহলে সেটি নষ্ট হয়ে যেত। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। জোর করে বয়ানে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে। লেখাচ্ছে। যা বলছে তাই করেছি। সিবিআই গাড়ি করে নিয়ে যায়। শারীরিক পরীক্ষা হয়নি। পুরোপুরি ফাঁসানো হয়েছে।
বিচারক বলেন, আপনাকে কাল বলেছিলাম আপনার বিরুদ্ধে চার্জ আনা হয়েছিল। এসব চার্জ প্রমাণিত হয়েছে।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪, ৬৬ এবং ১০৩/১ ধারায় কী কী শাস্তি হতে পারে, তা জানান বিচারক। এরপরে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশের পর সঞ্জয় রায় বলে, আমার তো বদনাম হয়ে গেলো।
রায় শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন নির্যাতিতার বাবা-মা। আর্থিক সাহায্য নেবেন না বলে জানালেন তারা।
এদিকে সঞ্জয় রায়কে ‘বেকসুর খালাস’ করাতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন তার আইনজীবী সেঁজুতি চক্রবর্তী। সাজা ঘোষণার পরই তিনি জানান, আমরা সঞ্জয়কে নির্যাতিত বলে মনে করছি। হাইকোর্টে যাবই। তাকে খালাস করানোর জন্যই যাচ্ছি। অভিযুক্ত, যিনি দোষী প্রমাণিত হচ্ছেন, তার অধিকার থাকে উচ্চ আদালতে আবেদন করার।









