পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে যাত্রীবাহী একটি ট্রেনে হামলা চালিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করেছে সশস্ত্র বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দেশটির সামরিক সূত্র ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানায়, কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেসে হামলা চালিয়ে যাত্রীদের আটক করেছে বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।
বিচ্ছিন্নতাবাদী এই গোষ্ঠী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ট্রেনের রেলপথে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেটি থামিয়ে দেয় এবং এরপর ট্রেনে হামলা চালায়। তারা দাবি করেছে, ট্রেন এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ট্রেনের চালকও রয়েছেন। পাকিস্তানি পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনী পাঠানো হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান চালাতে হেলিকপ্টারও মোতায়েন করা হয়েছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রেনটি একটি সুড়ঙ্গের সামনে আটকে পড়েছে এবং পাহাড়ঘেরা এলাকায় অবস্থান করছে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের বিরুদ্ধে বিএলএ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, জিম্মিদের উদ্ধারের চেষ্টা করা হলে ‘চরম পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।
বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে আসছে। তারা প্রায়ই পুলিশ স্টেশন, রেলপথ এবং মহাসড়কে হামলা চালিয়ে থাকে। পাকিস্তানসহ যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র বিএলএ-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
কোয়েটার রেলওয়ে কন্ট্রোলার মোহাম্মদ কাশিফ জানিয়েছেন, ট্রেনটিতে ৪০০ থেকে ৪৫০ জন যাত্রী ছিলেন। তবে কতজনকে জিম্মি করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্যারামিলিটারি বাহিনীর সূত্র উল্লেখ করে কোয়েটার রেলওয়ে কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, নারী ও শিশুরা ট্রেন থেকে নেমে সিবি শহরের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন, তবে তাদের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায়নি।
এদিকে, কোয়েটা রেলস্টেশনে যাত্রীদের পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনদের খোঁজ নেওয়ার জন্য তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। লাহোরগামী এক যাত্রীর ছেলে মুহাম্মদ আশরাফ বিবিসি উর্দুকে জানান, মঙ্গলবার সকালে তার বাবা কোয়েটা থেকে ট্রেনে উঠেছিলেন, কিন্তু এরপর থেকে তার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সংযোগ নেই, ফলে ট্রেনে থাকা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে সমৃদ্ধ হলেও এটি দেশটির সবচেয়ে অনুন্নত অঞ্চল।








