গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সামরিক সংঘর্ষ চলাকালে ভূপাতিত হওয়া ছয়টি ভারতীয় বিমানের ভিডিও ফুটেজ রয়েছে ইমলামাবাদের কাছে। রবিবার (১৭ আগস্ট) লাহোরে এক সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনটাই দাবি করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এ খবর জানিয়েছে।
নকভি বলেন, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি বিষয়ে জড়িত ছিলেন তিনি এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে অবগত ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘গত দেড় মাসে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পর্দার আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতের পরিকল্পনা আগে থেকেই জেনে ফেলেছিল। আমরা জানতাম তারা (ভারত) কী পরিকল্পনা করছে, কোন বিমান ব্যবহার করবে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তারা সামনে আসে না। আমাদের তাদের স্বীকৃতি দিতে হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর সিদ্ধান্ত হয়েছিল প্রমাণ ছাড়া এ ঘোষণা দেওয়া হবে না।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘আমাদের কাছে রাডার ডেটা ছিল, কিন্তু আমাদের স্থল প্রমাণ প্রয়োজন ছিল। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আমরা ভূপাতিত ছয়টি বিমানের ভিডিও ফুটেজ পাই। এই ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে।’
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এই সামরিক সংঘর্ষটি ঘটে মে মাসে, যখন ভারত কোনও প্রমাণ ছাড়াই পেহেলগাম হামলার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করে। পাকিস্তান অভিযোগটি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে।
পাকিস্তান দাবি করে, সংঘর্ষ চলাকালে তারা ছয়টি ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে উন্নতমানের ফরাসি তৈরি দাসো রাফালে জেটও ছিল। ভারতের সর্বোচ্চ পর্যায়ের জেনারেলও আকাশযুদ্ধে ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে ছয়টি বিমান হারানোর কথা অস্বীকার করেছেন।
সেমিনারে নকভি এরপর দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে সাতটি ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র একটি পাকিস্তানি ঘাঁটিতে আঘাত হানে। তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হওয়ার পরই স্পষ্ট হয়েছিল সেগুলো সীমান্ত অতিক্রম করবে।
তিনি বলেন, ‘মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল, ওই ঘাঁটিতে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম রয়েছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্রও ওই ঘাঁটিতে আঘাত করেনি। কিছু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, কিছু ঘাঁটির বাইরে পড়ে।’
নকভি আরও বলেন, ‘যখন আমরা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ি, তখন আমরা জনবসতির কাছাকাছি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করি, কিন্তু বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি এড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। আমরা তাদের সবচেয়ে বড় তেল ডিপো ধ্বংস করি এবং কোনও বেসামরিক হতাহত হয়নি।’
মন্ত্রী আরও জানান, রাওয়ালপিন্ডির নূর খান এয়ারবেস ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছিল, কিন্তু কোনও ক্ষতি হয়নি। তবে আমাদের একটি ঘাঁটিতে ক্ষতি হয়েছিল। সেখানে বিমানবাহিনীর একজন সদস্য শহীদ হয়েছিলেন।
গত ৬-৭ মে রাতে নয়াদিল্লি পাকিস্তানে একাধিক বিমান হামলা চালায়, যাতে অন্তত ৪০ বেসামরিক নিহত হয়। পরবর্তীতে উভয়পক্ষই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যা এক সপ্তাহ ধরে চলে। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় উভয়পক্ষ।









