২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বা ২০২৬ সালের প্রথম দিকে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন পরীক্ষামূলক কম্পিউটিং স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংক্রান্ত প্রক্রিয়াকরণের কাজে দ্রুত বর্ধনশীল কম্পিউটিং চাহিদা মেটাতে এটি হবে নতুন সমাধান। বৃহস্পতিবার এমনটা জানিয়েছেন বেইজিং অ্যাস্ট্রো-ফিউচার ইনস্টিটিউট অব স্পেস টেকনোলজির গবেষকরা।
সংস্থার পরিচালক চাং শানছোং জানান, বিশ্বে বড় ডেটা সেন্টারের বিস্তৃতি দ্রুত বাড়ছে। তবে স্থানের সংকট, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি ও কুলিংয়ের সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা দ্বিগুণ বেড়ে প্রায় ৯৪৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে। এই বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে এআই।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি জানায়, মহাকাশে থাকা সূর্যের অপরিমেয় জ্বালানি ও মাইনাস ২৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের স্থিতিশীল পরিবেশকে কাজে লাগানো সম্ভব। প্রকল্পটি এখন প্রাথমিক গবেষণা পর্যায়ে রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পৃথিবীর ৭০০-৮০০ কিলোমিটার উচ্চতায় ১৬টি স্পেস ডেটা সেন্টারের একটি বহর তৈরি করা হবে। এই কক্ষপথে প্রায় সব সময়ই সূর্যালোক থাকে। ওই বহরটি নেটওয়ার্কে আনুমানিক ১৬ গিগাওয়াট শক্তি সরবরাহ করতে পারবে। এ ছাড়া, নকশায় ব্যবহার করা হচ্ছে উচ্চ-ঘনত্বের সৌরকোষ ও নমনীয় রেডিয়েটিং প্যানেল।
চাং বলেন, এ প্রকল্প তিন ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে কক্ষপথে কম্পিউটিং শক্তি ও কুলিং প্রযুক্তির পরীক্ষা হবে এবং একাধিক পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে (২০২৮-২০৩০) খরচ কমিয়ে মহাকাশে কম্পিউটিংয়ের ব্যয়কে পৃথিবীর ডেটা সেন্টারের সমপর্যায়ে আনা হবে এবং তৃতীয় ধাপে (২০৩১-২০৩৫) কক্ষপথে সৌরশক্তিচালিত আরও বড় স্থাপনা গড়া হবে।
সূত্র: সিএমজি









