ভারত ও রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে এবং পণ্যের তালিকায় বৈচিত্র্য আনতে চায়। বৃহস্পতিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শুরু হওয়ার আগে দুই দেশই এ লক্ষ্যের কথা জানিয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, দুই দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। ২০২১ সালে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৪-২৫ সালে এ বাণিজ্য প্রায় ৬৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যার বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ভারতের জ্বালানি আমদানি।
২০২৫ সালের এপ্রিল-আগস্ট মেয়াদে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য কমে দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারে। ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শাস্তিমূলক শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ তেল আমদানি কমে যাওয়ায় বাণিজ্যে এ প্রভাব পড়ে।
এ সময় ভারত নতুন রফতানিবাজার খুঁজছে। ট্রাম্পের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ক ভারতীয় পণ্যের রফতানিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এই শুল্কের অর্ধেক আরোপ করা হয়েছে রুশ তেল কেনার জন্য। ওয়াশিংটন বলছে, রুশ তেল কেনা মস্কোর ইউক্রেন যুদ্ধকে সহায়তা করছে।
বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষায় রুশপক্ষ আরও বেশি ভারতীয় পণ্য আমদানি করতে চায় বলে জানান রুশ উপপ্রধান কার্যালয়ের উপপ্রধান ম্যাকসিম ওরেশকিন। তিনি বলেন, আমরা খুব নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এসেছি। ভারতীয় পণ্য ও সেবা কেনার জন্য এসেছি। আমরা এ ক্রয় বহুগুণ বাড়াতে চাই।
তিনি এটিকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ‘কৌশলগত সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। বর্তমানে রুশ আমদানিতে ভারতের অংশ ২ শতাংশের বেশি নয়।
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীয়ূষ গোয়েলও জানান, রাশিয়ায় ভারতের রফতানি বৈচিত্র্য আনতে অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিকস, ডেটা প্রসেসিং যন্ত্রপাতি, ভারী যন্ত্রাংশ, শিল্প উপকরণ, বস্ত্র ও খাদ্যপণ্য বিক্রি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের বাণিজ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে, আরও ভারসাম্য আনতে হবে।
রাশিয়ার কৃষিমন্ত্রী অকসানা লুট বলেন, তারা ভারত থেকে চিংড়ি, চাল ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল আমদানি বাড়াতে প্রস্তুত। ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিংড়ি রফতানিকারক দেশ এবং বর্তমানে রুশ বাজারে ভারতের শেয়ার ২০ শতাংশ।
লুট জানান, ভারতীয় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সরঞ্জামেও রুশ কোম্পানিগুলোর আগ্রহ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় চিংড়ি সরবরাহকারী ছিল ভারত। কিন্তু ট্রাম্পের শুল্কে রফতানি হ্রাস পাওয়ায় ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প বাজার খুঁজছে।
এদিকে পুতিনের সফর উপলক্ষে রাশিয়ার সিনিয়র মন্ত্রী ও বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছে। বৃহস্পতিবার রাতে পুতিনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নৈশভোজ এবং শুক্রবার শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।









