প্রাক্তন জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে হত্যার দায়ে তেতসুয়া ইয়ামাগামিকে আজীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। ২০২২ সালে দিনের আলোয় সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড জাপানসহ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল।কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত টেটসুয়া ইয়ামাগামির বিচারে প্রসিকিউটররা আজীবন কারাদণ্ডের দাবি জানিয়েছিলেন। তারা এই হত্যাকে যুদ্ধোত্তর জাপানের ইতিহাসে অভূতপূর্ব বলে উল্লেখ করে সমাজের ওপর এর অত্যন্ত গুরুতর প্রভাব এর কথা তুলে ধরেন। অক্টোবরে বিচার শুরুর সময় প্রসিকিউটররা যুক্তি দেখান যে, ইয়ামাগামি ইউনিফিকেশন চার্চের (পূর্বতন ইউনিফিকেশন চার্চ) ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে আবেকে হত্যা করেছেন। প্রসিকিউটরের ভাষায়, “তিনি ভেবেছিলেন যে, প্রভাবশালী সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবের মতো কাউকে হত্যা করলে চার্চের প্রতি জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাবে এবং এর বিরুদ্ধে সমালোচনা বাড়বে।”
ইয়ামাগামির আইনজীবীরা অবশ্য সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের দাবি করেছিলেন। তারা যুক্তি দেখান যে, তার মা চার্চে জীবনের সঞ্চয়ের অধিকাংশ দান করে দেওয়ায় পরিবার চরম দুর্দশার মুখে পড়েছিল, যা ইয়ামাগামির জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এই কষ্ট ও পারিবারিক দুর্ভোগকে বিবেচনায় নিয়ে তারা হালকা শাস্তির আবেদন জানান। তবে আদালত প্রসিকিউটরদের যুক্তি মেনে নিয়ে ইয়ামাগামিকে আজীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে, যা এই ঘটনার গুরুতরতা ও সমাজে সৃষ্ট আলোড়নকে প্রতিফলিত করে।
শিনজো আবে জাপানের দুই বারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোট ৩,১৮৮ দিন দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর তিনি স্বাস্থ্যজনিত কারণে পদত্যাগ করেন। তাঁর অনুসারী সানায়ে তাকাইচি বর্তমানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তবে শিনজো আবের দল এলডিপির পার্লামেন্টে প্রভাব কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।









