চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিল্পকে দেখে অনেকেরই মনে হচ্ছে আমেরিকার আধিপত্য বুঝি আর বেশি দিন নেই। একের পর এক শক্তিশালী ওপেন-সোর্স এআই মডেল, রেকর্ড ডাউনলোড, সব মিলিয়ে চীনের এআই উত্থান যেন থামবার নয়। কিন্তু পর্দার আড়ালে ছবিটা সত্যিই এতটা উজ্জ্বল কিনা, সে প্রশ্নও রয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে বেইজিংয়ে চীনের শীর্ষ এআই গবেষক ও উদ্যোক্তাদের এক বৈঠকে প্রশ্ন ওঠে, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে কি কোনও চীনা এআই কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে? আলিবাবার কুয়েন এআই মডেলের টেকনিক্যাল লিড জাস্টিন লিনের উত্তর ছিল, “সম্ভাবনা ২০ শতাংশেরও কম, আর সেটাই খুব আশাবাদী হিসাব”।
এই মন্তব্য এক বছরের ‘এআই বুম’ ঘিরে তৈরি উত্তেজনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ ইতোমধ্যে ডিপসিক-এর মতো স্টার্টআপ কম খরচে শক্তিশালী মডেল তৈরি করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। ওপেন এআই মডেলের ডাউনলোডে চীনা কোম্পানিগুলো শীর্ষে উঠে এসেছে, হংকংয়ে একের পর এক এআই কোম্পানির শেয়ার বাজারে আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।
তবু বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়েই গেছে। উন্নত চিপের দুষ্প্রাপ্যতা, যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত কম্পিউটিং শক্তির অভাব এবং তুলনামূলক কম বিনিয়োগ এসব কারণে ফ্রন্টিয়ার বা সবচেয়ে উন্নত ক্লোজড এআই মডেলে চীন এখনও পিছিয়ে। ওপেনএআই, গুগল ও অ্যানথ্রপিকের ক্লোজড মডেলগুলোই এখনও পারফরম্যান্সের মানদণ্ডে এগিয়ে।
এই সীমাবদ্ধতা থেকেই চীন বেছে নিয়েছে ভিন্ন কৌশল। ওপেন-সোর্স এআই আলিবাবা একাই ৪০০-এর বেশি ওপেন কুয়েন মডেল উন্মুক্ত করেছে, যার ডাউনলোড ১ বিলিয়নের বেশি। ওপেন মডেলের কারণে খরচ কমছে, দ্রুত অ্যাপ্লিকেশন তৈরি হচ্ছে, আর ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকিও কিছুটা কমছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের শক্তি মূলত বাস্তব প্রয়োগে। উৎপাদন, ই-কমার্স, লজিস্টিকস, রোবোটিক্স সবখানেই এআই দ্রুত ঢুকে পড়ছে। সরকারও শিল্প খাতে এআই ব্যবহারে জোর দিচ্ছে।
তবে শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা প্রযুক্তির চেয়েও মানসিকতার নতুন ঝুঁকি নেওয়া, একেবারে নতুন ধারণার নেতৃত্ব দেওয়া। সেই জায়গাতেই চীনের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।









