মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় শান্তি চুক্তি সত্ত্বেও থাইল্যান্ডের সেনারা এখনও কম্বোডিয়ার ভূখণ্ড দখল করেছে বলে অভিযোগ করেছেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন মানেত।
সাক্ষাৎকারে মানেত বলেছেন, গত বছরের সংঘর্ষের পর ডিসেম্বরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও থাই বাহিনী এখনও কম্বোডিয়ার অভ্যন্তরে অবস্থান করছে। এছাড়াও তিনি থাইল্যান্ডকে যৌথ সীমান্ত কমিশন (জেবিসি) দ্রুত কাজ শুরু করার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বিরোধপূর্ণ সীমান্ত নির্ধারণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া যায়।
মানেত আরও বলেছেন, থাই বাহিনী বহু এলাকায় কম্বোডিয়ার গভীরে অবস্থান করছে, যা থাইল্যান্ডের একতরফা দাবি করা সীমারেখারও বাইরে। তার অভিযোগ, থাই সেনারা কম্বোডিয়ার স্বীকৃত ভূখণ্ডের ভেতরে কনটেইনার ও কাঁটাতারের বেড়া বসিয়েছে, ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরে ফিরতে পারছেন না।
এছাড়াও তিনি আরও বলেছেন, এটি কোনও অভিযোগ নয়, বরং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার বর্ণনা। কম্বোডিয়া তার সার্বভৌমত্ব বা ভৌগোলিক অখণ্ডতার কোনও লঙ্ঘন মেনে নেবে না।
মানেত আরও জানিয়েছে, সীমান্ত বিরোধের একমাত্র সমাধান হলো বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়ায় যৌথভাবে সীমানা নির্ধারণ। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, থাইল্যান্ড দ্রুত জেবিসিকে কাজ শুরু করতে দেবে।
অন্যদিকে থাইল্যান্ড বলেছে, তারা উত্তেজনা প্রশমনের অংশ হিসেবে সীমান্তে সেনা মোতায়েন বজায় রেখেছে এবং কোনও ভূখণ্ড দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে এ বিষয়ে থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়, যাতে কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয় এবং ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে বাণিজ্য ব্যাহত হয়। অক্টোবরে ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় একটি শান্তি চুক্তি হলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা ভেঙে পড়ে। পরে ২৭ ডিসেম্বর নতুন করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।









