তরকারি, চাটনি কিংবা আচার, ভারতীয় উপমহাদেশে রান্নায় ঝাল মরিচের উপস্থিতি এতোটাই তীব্র যে একে ছাড়া এখানকার খাবারের কথা ভাবাই যায় না। কিন্তু ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় একেবারেই ভিন্ন চিত্র। যে মরিচ আজ রন্ধনশৈলীর অন্যতম পরিচিতি, পাঁচ শতক আগেও তার অস্তিত্বই ছিল না এই উপমহাদেশে।
মরিচ আসার বহু আগে ভারতীয় খাবারে ঝালের জন্য নির্ভর করা হতো পিপুল বা দীর্ঘ মরিচ (পিপ্পলি)-এর ওপর। এশিয়া মহাদেশের কোনও দেশই মরিচের আদি নিবাস নয়। ২০১৪ সালে প্রকাশিত প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস (পিএনএএস)-এর এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ৬ হাজার বছর আগে প্রথম মেক্সিকোতে মরিচের চাষ শুরু হয়। ফলে এটি সম্পূর্ণভাবে মধ্য আমেরিকার ফসল, যার কোনও মূল শিকড় ভারতে ছিল না।
মরিচের এই উপমহাদেশে আসার গল্পটাও বেশ দীর্ঘ। ক্রিস্টোফার কলম্বাস যখন কালো গোলমরিচের খোঁজে ক্যারিবীয় অঞ্চলে যান, তখন তিনি প্রথম এই গাছের দেখা পান এবং ভুলবশত একে গোলমরিচ ভেবে ইউরোপে নিয়ে যান। জেস্টোর ডেইলির তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে ১৫৪২ সালের দিকে পর্তুগিজ বণিকদের হাত ধরে গোয়া হয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে পৌঁছায় এই মরিচ। ব্রাজিল (যা তখন পর্তুগিজ উপনিবেশ ছিল) থেকে আনা হয়েছিল বলে গোয়ায় প্রাথমিক দিকে একে ‘পেরনামবুকো পেপার’ নামে ডাকা হতো।
উপমহাদেশে আসার পর অতি দ্রুতই ভারতীয় রান্নাঘরে নিজের জায়গা করে নেয় এই উপাদানটি। সেই সময়ে কালো গোলমরিচ ছিল অত্যন্ত মূল্যবান ও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। অন্যদিকে মরিচ চাষ ছিল সহজ এবং অত্যন্ত সস্তা, যা খুব দ্রুত সাধারণ গৃহস্থ ও কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। মাত্র কয়েক দশকের ব্যবধানেই গোলমরিচকে সরিয়ে রান্নায় ঝালের প্রধান উৎস হয়ে ওঠে মরিচ। কালক্রমে ভারতের মাটি ও আবহাওয়ায় জন্ম নেয় গুন্টুরসহ নিজস্ব বৈচিত্র্যময় সব মরিচের জাত।
পাঁচশ বছর আগে যে ফসলের কোনও অস্তিত্বই ছিল না, আজ বিশ্বমঞ্চে সেই মরিচের সবচেয়ে বড় উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশ হলো ভারত। মেক্সিকো, ক্যারিবীয় অঞ্চল, ইউরোপ ও ব্রাজিল ঘুরে ভারতে পৌঁছানো এই অচেনা উপাদানটিই আজ ভারতীয় খাবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সূত্র: এনডিটিভি

যে ফলের দাম আইফোনের চেয়েও বেশি
হামলা স্থগিতে ট্রাম্পকে অনুরোধের দাবি প্রত্যাখ্যান ইরানের






