মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি তলানিতে, উদ্বেগ জাতিসংঘের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৯আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৯

মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটে তা ‘নতুন তলানিতে’ গিয়ে ঠেকেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটির রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের ওপর অব্যাহত নির্যাতন এবং বিরল খনিজ উপাদানের অবৈধ খননসহ বেআইনি অর্থনীতির ভয়াবহ প্রভাবে বেসামরিক জনগণের দুর্ভোগ চরম রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতা দখলকারী মিয়ানমার সেনাবাহিনী সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় বিমান হামলা, অগ্নিসংযোগ, উচ্ছেদ ও সহায়তা না দেওয়ার মতো নির্মম কৌশল ব্যবহার করছে।

অভ্যুত্থানের পর থেকে আনুমানিক ৮ হাজার ৭৫ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৭৪ জন শিশু। শুধু গত এক বছরেই নিহত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ২৪১ জন। তবে প্রকৃত প্রাণহানি আরও বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। বিভিন্ন উন্মুক্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অভ্যুত্থানের পর থেকে নিহত বেসামরিক মানুষের সংখ্যা ১৫ হাজার ৭৩১ জন এবং গত এক বছরে ৩ হাজার ১০২ জন পর্যন্ত হতে পারে।

সহিংসতার কারণে বর্তমানে দেশটিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৩৬ লাখে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে রয়েছে এবং ৪ লাখ শিশু ও মা চরম পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন।

পশ্চিমের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী এবং তাদের বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মিও মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। ৯ বছর আগে শুরু হওয়া সেনা অভিযানের ধারাবাহিকতায় আবারও নতুন করে বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটছে।

প্রতিবেদনে আরাকান বাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর বেআইনি গ্রেফতার, নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, বাধ্যতামূলক শ্রমে বাধ্য করা এবং বাড়িঘর ও ধর্মীয় উপাসনালয় ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে। বাধ্যতামূলক সেনাসেবা এড়াতে গিয়ে ধরা পড়লে তাদের ওপর নখ উপড়ে ফেলা এবং যৌনাঙ্গে মরিচ দেওয়ার মতো নির্মম নির্যাতন চালানো হয়।

আইনের শাসনের অভাবে উত্তর কাছিন এবং উত্তর-পূর্ব শান রাজ্যে বিরল খনিজ উপাদানের বেআইনি খনন ও সীমান্ত পারাপারের অপরাধ চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, কাছিন রাজ্যে ২০২১ সালের পর খনিজ খননের এলাকা ১৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩০২টি নতুন স্থানে ছড়িয়েছে। এই খননের ফলে তৈরি পরিবেশ দূষণে গর্ভপাতসহ বিভিন্ন জটিল প্রজনন সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক আখ্যা দিয়ে বলেছেন, প্রতিবেদনটি দেশজুড়ে মানুষের ভোগান্তি, দুর্দশা ও নিষ্ঠুরতার চিত্র তুলে ধরেছে। তিনি মিয়ানমারের সাথে সম্পর্ক থাকা সব রাষ্ট্র, কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের নিজেদের ভূমিকা পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

/এএস/ 
সম্পর্কিত
গ্রিস উপকূলে বাংলাদেশিসহ ৭৯ অভিবাসী উদ্ধার
ভারত-পাকিস্তানের জাহাজসহ ৪৫টি নৌযান ইরানের কালো তালিকায়
ইসলামাবাদের হাসপাতালে আগুন, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু 
সর্বশেষ খবর
চীন-ভারত সীমান্ত ইস্যুতে বেইজিংয়ে ওয়াং ই-দোভাল বৈঠক
চীন-ভারত সীমান্ত ইস্যুতে বেইজিংয়ে ওয়াং ই-দোভাল বৈঠক
ছয় মাসে পুলিশ গ্রেফতার করেনি এমন অপরাধী পাওয়া যাবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছয় মাসে পুলিশ গ্রেফতার করেনি এমন অপরাধী পাওয়া যাবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কাউন্টিতে খেলতে চেয়েছিলেন শরিফুল, বিসিবির ‘না’
কাউন্টিতে খেলতে চেয়েছিলেন শরিফুল, বিসিবির ‘না’
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হলে জুনিয়রকে রাতভর র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হলে জুনিয়রকে রাতভর র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
শেখ হাসিনার আত্মীয় বলায় যা বললেন আন্দালিভ রহমান পার্থ
শেখ হাসিনার আত্মীয় বলায় যা বললেন আন্দালিভ রহমান পার্থ
বিনা খরচে জাপানে চাকরির সুযোগ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের
বিনা খরচে জাপানে চাকরির সুযোগ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের
রংপুরে চার খুন: এবার পুলিশ ও চিকিৎসকের বক্তব্যে অমিল, তদন্ত কোন পথে?
রংপুরে চার খুন: এবার পুলিশ ও চিকিৎসকের বক্তব্যে অমিল, তদন্ত কোন পথে?
রহস্য উদঘাটন করে পিবিআই বলছে ঘটনাটি ‘গোপন সম্পর্কের’ বলি
রহস্য উদঘাটন করে পিবিআই বলছে ঘটনাটি ‘গোপন সম্পর্কের’ বলি
গাজী কারখানায় নিখোঁজ ১৮২ জন মারা গেছে, স্বজনদের দাবি ‘আজও জীবিত’
গাজী কারখানায় নিখোঁজ ১৮২ জন মারা গেছে, স্বজনদের দাবি ‘আজও জীবিত’