মিসরে রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। চলতি মাসের মাঝামাঝি তিনি নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তার ওয়াশিংটন সফরের কথা রয়েছে। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে তাকে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে আপ্যায়ন করবেন। দুই নেতা সর্বশেষ মে মাসে বেইজিংয়ে বৈঠক করেছিলেন।
ওয়াশিংটন সফরের আগে শির ধারাবাহিক সফরগুলো বাছাই করা এবং এর পেছনে উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করেন ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্র্যাসিজের চীনবিষয়ক কর্মসূচির জ্যেষ্ঠ পরিচালক ক্রেইগ সিঙ্গেলটন।
তিনি বলেন, শি পুতিনের পাশে দাঁড়াতে পারেন, বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে পারেন এবং একই সঙ্গে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে পারেন। চীন ওয়াশিংটনকে দেখাতে চায় যে তাদের কূটনৈতিক সক্ষমতা গভীর এবং কৌশলগত বিকল্পও রয়েছে।
চীনের এই তৎপরতা এমন সময়ে হচ্ছে, যখন ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ, ভেনেজুয়েলার নেতাকে আটক এবং বাণিজ্যযুদ্ধসহ বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নতুন করে অবস্থান নিতে হচ্ছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের চীনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক হেনরিয়েটা লেভিন বলেন, সামগ্রিকভাবে যদি কোনও বার্তা থাকে, তা হলো চীন নির্ভরযোগ্য অংশীদার এবং চীনের প্রবৃদ্ধি বিশ্বের জন্য উপকারী। আমরা বৈশ্বিক দক্ষিণে চীনের নেতৃত্বের ওপর খুব বেশি গুরুত্ব দেখতে পাব।
বেইজিংয়ের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর চায়না অ্যান্ড গ্লোবালাইজেশনের উপমহাসচিব জিচেন ওয়াং বলেন, কিরগিজস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ ও দুই দেশকে যুক্ত করা রেলপথ নির্মাণের মতো উদ্যোগ চীনের অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করার বাস্তব উদাহরণ।
তিনি আরও বলেন, চীন চায় বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে তাদের ধারণাগুলো আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হোক। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা হলো এমন একটি জায়গা, যেখানে মানুষ এসব ধারণা বাস্তবে কীভাবে কাজ করে, তার প্রমাণ খুঁজতে পারে।
মিসরের সঙ্গে চীনের সামরিক সম্পর্কও বাড়ছে। শি কায়রো পৌঁছানোর সময় চীন ও মিসরের যৌথ যুদ্ধবিমান মহড়া শেষ হয়। গত বছর থেকে এ ধরনের মহড়া শুরু হয়েছে। একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় মিসরের একটি বড় ব্যাংকের একটি শাখার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
গবেষক গেউইর্টজ বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শির জন্য অসাধারণ এবং বিরলভাবে সময়োপযোগী একটি সুযোগ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে তিনি মিসরের পাশে দাঁড়িয়ে অর্থনৈতিক চাপকে দুই দেশের সংহতির কারণ হিসেবে তুলে ধরতে পারেন।
তবে শির সফরসূচিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নেই, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি এই বার্ষিক সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যদিও ওই সময় তিনি ওয়াশিংটনেই থাকবেন।
সিঙ্গেলটনের মতে, সাধারণ পরিষদ এড়িয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায়, বেইজিং এমন মঞ্চকে বেশি পছন্দ করছে, যেখানে কূটনৈতিক আয়োজনের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে বেশি থাকবে। তিনি বলেন, শি এমন শর্তে কূটনীতি চান, যেখানে চীন আলোচনার বিষয়সূচি নির্ধারণ করতে পারে।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

যুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহে পর্নোগ্রাফিকে বৈধতার পথে ইউক্রেন
ইরানি সাইবার কমান্ডার আমির ইয়ারইয়াব সম্পর্কে যা জানা গেলো
দিল্লির সত্য নিকেতনে বহুতল ভবন ধস, আটকা পড়ার শঙ্কা বহু শিক্ষার্থীর







