শ্রীলঙ্কায় ২০১৯ সালে ইস্টার সানডেতে আত্মঘাতী বোমা হামলার মামলায় ১৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে দেশটির হাইকোর্ট। ভয়াবহ সেই হামলায় ২৭০ জন নিহত ও ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন। মামলাটিতে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে প্রসিকিউশন চিহ্নিত নাউফার মৌলভীসহ এই ১৫ জন দোষী সাব্যস্ত হলেও বেকসুর খালাস পেয়েছেন ৯ জন।
২০০৯ সালে গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর শ্রীলঙ্কায় এটিই ছিল সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলা। তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে সমন্বিত ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে ৪৫ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। হামলায় অংশ নেওয়া সব আত্মঘাতী হামলাকারী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের ২৫ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হত্যা, সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্র ও অস্ত্র রাখার মতো ২৩ হাজারেরও বেশি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। বিচারে ২,৩০০ জনেরও বেশি সাক্ষী সাক্ষ্য দেন এবং আলামত হিসেবে বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেওয়া হয়।
হামলা রোধে ব্যর্থতার জন্য শুরু থেকেই কর্তৃপক্ষীয় গোয়েন্দা চরম গাফিলতির বিষয়গুলো সামনে আসে। ভারত থেকে আসা আগাম সতর্কবার্তা সঠিক স্থানে না পৌঁছানো এবং জাতীয় নিরাপত্তার ব্যর্থতার দায়ে ২০২৩ সালে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সাবেক প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনাকে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। গত মাসেও দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে অপরাধমূলক অবহেলার জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
চলতি রায়ের পাশাপাশি সাবেক গোয়েন্দা প্রধান সুরেশ সালেকে ঘিরেও তদন্ত চলছে, যিনি এই হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে অভিযুক্ত। ২০২৩ সালে ব্রিটিশ গণমাধ্যম চ্যানেল ৪-এর এক প্রামাণ্যচিত্রে রাজাপাকসে পরিবারের রাজনৈতিক সুযোগ সুবিধার জন্য এই হামলা ঘটতে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। তবে ফেব্রুয়ারিতে গ্রেফতার হওয়া সালে এবং ওই হামলার পর নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস দিয়ে ক্ষমতায় আসা সাবেক প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে উভয়েই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বর্তমানে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া গোটাবায়া রাজাপাকসে আদালতের কাছে তার গ্রেফতার এড়াতে আবেদন করেছেন।
সূত্র: বিবিসি

হিমবাহ ধসের কারণ অনুসন্ধান করে যা জানালেন বিজ্ঞানীরা







