গত আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চীনের বিরল খনিজ উপাদান (রেয়ার আর্থ) আমদানি ২৩ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ২১ টনে পৌঁছেছে, যার ৭০ শতাংশই সরবরাহ করেছে মিয়ানমার। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে মিয়ানমারের সঙ্গে লিয়াজোঁ রক্ষা এবং ভারতের আগ্রহের পর জান্তা সমর্থকেরা দাবি করছেন যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে জান্তা সরকারের হাতে এই বিরল খনিজের খনিগুলো একটি বড় হাতিয়ার। কিন্তু বাস্তবে উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ ও আঞ্চলিক তথ্যে দেখা গেছে, চীনের সাপ্লাই চেইন বজায় রাখা মিয়ানমারের প্রায় ৬০০টি বিরল খনিজের খনিগুলোর প্রায় কোনোটিই জান্তা সরকারের ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণে নেই।
বৈদ্যুতিক যানবাহন, উইন্ড টারবাইন, স্মার্টফোন এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল উপাদান হিসেবে ভারী রেয়ার আর্থ (এইচআরইই) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন বৈশ্বিক নিষ্কাশনের ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করলেও তাদের নিজস্ব মজুত মূলত হাল্কা রেয়ার আর্থ কেন্দ্রিক। ফলে দেশটি মিয়ানমারের উত্তরের খনি বলয়ের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় অর্ধেক ভারী রেয়ার আর্থ আসে মিয়ানমার থেকে, বিশেষ করে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য জরুরি ডিসপ্রোসিয়াম ও টারবিয়াম।
স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, কাচিন রাজ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ খনি অবস্থিত, যার মধ্যে ছিপউই ও মোমাউক অঞ্চলে ৩৭০টিরও বেশি সক্রিয় খনি রয়েছে। ২০২৪ সালের শেষের দিক পর্যন্ত এগুলো জান্তা-মিত্র মিলিশিয়া নিউ ডেমোক্র্যাটিক আর্মি-কাচিনের (এনডিএ-কে) নিয়ন্ত্রণে ছিল, যা থেকে জান্তা জেনারেলরা কোটি কোটি ডলারের কর পেতেন। তবে ২০২৪ সালের অক্টোবরে কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি (কেআইএ) বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে এই খনিগুলো দখল করে নেয়। অন্যদিকে শান রাজ্যেও গত পাঁচ বছরে খনি কার্যক্রমে ৪৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা এখন তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ), ইউনাইটেড ওয়া স্টেট আর্মি (ইউডব্লিউএসএ) এবং ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মির (এনডিএএ) মতো সশস্ত্র দলগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
খনিগুলো মূলত সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় পরিবেশগত তোয়াক্কা না করে এসিড দ্রবণ ঢেলে ইন-সিটু লিচিং পদ্ধতিতে খনিজ উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব রাসায়নিক সরাসরি এনমাই খা নদীতে মিশে মিয়ানমারের অন্যতম প্রধান জীবনরেখা ইরাবতী নদীকে মারাত্মক দূষিত করছে।
এদিকে, বেইজিংয়ের প্রভাব রুখতে ওয়াশিংটনও এই খনিজ পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা মিয়ানমারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকের কথা প্রকাশ করে। এ ছাড়া মার্কিন কর্মকর্তারা টোকিওতে জান্তা প্রতিনিধিদের সঙ্গে জোড়া বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি ভারতও তাদের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির অধীনে এসব খনি খাতে যৌথ বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। তবে খনিগুলোতে মিয়ানমার সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নাই।
পাঁচ বছর পর মা সু চির সঙ্গে ফোনে কথা বলে যা জানালেন তার ছেলে
আরও নির্ভুল পারমাণবিক আলোকঘড়ি বানালেন চীনা বিজ্ঞানীরা