উইঘুর মুসলিমরা গণহত্যার শিকার হচ্ছে: মার্কিন থিংক ট্যাংক

বিদেশ ডেস্ক
১০ মার্চ ২০২১, ১৮:১০আপডেট : ১০ মার্চ ২০২১, ২২:৩১
image

জিনজিয়াং প্রদেশে মুসলিম উইঘুর জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যা চলছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি থিংক ট্যাংক। মঙ্গলবার নিউজলাইন ইনস্টিটিউট ফর স্ট্রাটেজি অ্যান্ড পলিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিং উইঘুরদের ওপর জাতিসংঘের গণহত্যাবিরোধী কনভেনশনে নিষিদ্ধ সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে বলে ‘স্পষ্ট এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ পাওয়া গেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকে একই অভিযোগ আনা হলেও তা অস্বীকার করেছে বেইজিং। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

উইঘুর মুসলমানদের সঙ্গে চীনের আচরণকে ইতোমধ্যে গণহত্যা বলে আখ্যা দিয়েছে মার্কিন সরকার এবং কানাডা ও নেদারল্যান্ডসের পার্লামেন্ট। মানবাধিকার হরণের অভিযোগে বেশ কয়েকজন চীনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। তারপরও গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে বেইজিং। তাদের দাবি, উগ্রবাদ মোকাবিলায় জিনজিয়াং-এ অন্তর্বর্তী শিবির এবং ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালানো হচ্ছে।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউজলাইন ইনস্টিটিউট ফর স্ট্রাটেজি অ্যান্ড পলিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনযুদ্ধ’ ঘোষণার পর বেইজিং যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে উইঘুর জনগোষ্ঠী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ওই ঘোষণার পর চীনা কর্মকর্তারা গণহারে বন্দি, উইঘুর নেতাদের হত্যা, জোর করে বন্ধ্যাত্বকরণ, পরিবার থেকে শিশুদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলা এবং মুসলিম জনগোষ্ঠীটির পরিচয় নিশ্চিহ্ন করে ফেলছে।

নিউজলাইন বলছে, তাদের প্রতিবেদনটি উইঘুরদের সঙ্গে চীনের আচরণের প্রথম স্বাধীন বিশ্লেষণ। ১৯৪৮ সালের গণহত্যা প্রতিরোধ এবং শাস্তির কনভেনশন অনুযায়ী এই বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। এতে ৩০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞের মতামত স্থান পেয়েছে। এসব বিশেষজ্ঞ চীন সরকারের প্রচারপত্র, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং স্যাটেলাইটের ছবি সংগ্রহ ও যাচাই করে পরীক্ষা করে দেখেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে পাঁচটি কাজের মাধ্যমে গণহত্যা সংঘটিত হয় তার প্রতিটিই চীন সরকার করেছে বলে স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই পাঁচটি কাজ হলো জনগোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা করা, তাদের শারীরিক এবং মানসিক ক্ষতিসাধন করা, অংশ বিশেষ কিংবা পুরো শরীরের ক্ষতিসাধনের উদ্দেশে শর্তারোপ করা, জন্ম প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়া এবং এক জনগোষ্ঠী থেকে অন্যত্র শিশুদের জোর করে সরিয়ে ফেলা।

গত ফেব্রুয়ারিতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলকে বলেন, ‘জিংজিয়াং-এ কোনোভাবেই কথিত গণহত্যা, বাধ্যতামূলক শ্রমশোষণ কিংবা ধর্মীয় নিপীড়ন চালানো হচ্ছে না।’ তিনি অঞ্চলটি পরিদর্শন করতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনারকে আমন্ত্রণ জানান। তবে এর কোনও সময়সীমা দেওয়া হয়নি।

/জেজে/বিএ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
প্রশিক্ষণে চীন যাচ্ছেন ছাত্রদল-যুবদল নেতাসহ তরুণ প্রতিনিধিরা
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম