মরুভূমিতে ধান চাষের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি এই বিজ্ঞানীরা উত্তর-পশ্চিম চীনের সিনচিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে বিস্তৃত মরুভূমি উন্নত গ্রিনহাউজ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধান চাষ করতে সক্ষম হয়েছেন, যা মরুভূমিতে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে তুলে ধরছে।
চীনের কৃষি বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির ইন্সটিটিউট অব আর্বান অ্যাগ্রিকালচারের বিজ্ঞানীরা দক্ষিণ সিনচিয়াংয়ের হোথানে প্রায় দশ হাজার একর মরুভূমিতে গ্রিন হাউজে ধান রোপণ করেন। তারা তিন স্তরের ফ্রেম এবং নির্ভুল পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করে ধান চাষ করেছেন, যা ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুত ফলন দিয়েছে।
ইন্সটিটিউটের প্রধান বিজ্ঞানী ইয়াং ছিছাং জানান, এই পদ্ধতি ব্যবহার করে মাত্র ৬০ দিনের মধ্যে ধান পরিপক্ব হয়, যা সাধারণত চীনের প্রধান ধান চাষের অঞ্চলে ১২০ থেকে ১৫০ দিন লাগে। মূলত মরুভূমিতে গ্রিন হাউজে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ এবং তিন স্তরের ফ্রেমে চাষ করা হয়।
এ গবেষণায় প্রথম সাফল্যটি আসে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিছুয়ান প্রদেশের ছেংতুর একটি উদ্ভিদ কারখানায়। এ ছাড়া ২০২১ সালে স্পিড ব্রিডিং টেকনোলজির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ধানের বৃদ্ধির সময়কে অর্ধেক নামিয়ে আনা হয়।
ইয়াংয়ের মতে, হোথান মরুভূমির কঠিন পরিবেশ ধান চাষের বাধা নয়, বরং একটি সুযোগ। এই অঞ্চলে দীর্ঘ দিন সূর্যের আলো এবং দিন ও রাতের মধ্যে তাপমাত্রার পার্থক্যসহ অনন্য ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ফসল চাষের জন্য আদর্শ। হোথান মরুভূমিতে এই গ্রিণহাউজে প্রযুক্তির দক্ষ ব্যবহারের ফলে প্রচলিত চাষাবাদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
গবেষকরা এলইডি আলো, নির্দিষ্ট পুষ্টির সমাধান ফর্মুলেশন এবং উন্নত মাটিবিহীন চাষ প্রযুক্তি প্রয়োগ করে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করেছেন।
ইন্সটিটিউটের সহকারী গবেষক শি তাওয়েই জানান, মরুভূমির প্রাকৃতিক পরিবেশের যেসব সুবিধা রয়েছে, যেমন প্রচুর আলো এবং তাপ কৃষির সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি শিনচিয়াংয়ে খাদ্য উৎপাদনের পথ প্রশস্ত করছে।
বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের গ্লাস হাউজ সুবিধা-ভিত্তিক কৃষির ভালো উদাহরণগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত। শক্তি-সাশ্রয়ী মরুভূমির গ্রিন হাউজগুলোর নির্মাণ ব্যয় প্রতি বর্গমিটারে ৩৫০ ইউয়ান, যা ডাচ গ্লাস হাউজগুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এছাড়া এর পরিচালনা ব্যয় ডাচ গ্লাস হাউজগুলোর তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ।
ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, যান্ত্রিকীকরণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এই ধরনের গ্রিন হাউজের নির্মাণ এবং পরিচালনার ব্যয় উভয়ই কমানো যেতে পারে। এই ধরনের গ্রিন হাউজগুলো আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হবে বলেন মনে করেন বিজ্ঞানী ইয়াং।
গবেষণা দলটি হোথানের মরুভূমির গ্রিন হাউজে সয়াবিন, ভুট্টা এবং গমের মতো প্রধান ফসলের পাশাপাশি তৈলবীজ, তুলা এবং আলফালফার স্পিড ব্রিডিং প্রযুক্তি উদ্ভাবনের চেষ্টা করছেন।
সূত্র: চায়না ডেইলি









