চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অপ্রত্যাশিতভাবে তিব্বত সফর করেন। বুধবার (২০ আগস্ট) তিব্বতের হাজার হাজার মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে ঐক্যের আহ্বান জানান তিনি। চীনের তিব্বতকে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে গঠনের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সেখানে সফরে গেলেন শি।
সীমিত নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলে এটি শি’র দ্বিতীয় সফর। তার সফর উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে স্থানীয় সরকারের প্রশংসা করেছেন শি। বলেছেন, ‘তিব্বতকে শাসন করা, স্থিতিশীল করা এবং উন্নয়ন করা হলে, প্রথমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক স্থিতিশীলতা, জাতিগত ঐক্য এবং ধর্মীয় সংগতি বজায় রাখা জরুরি।’
৭২ বছর বয়সী শির জন্য অনেক উঁচুতে অবস্থিত তিব্বতের রাজধানী লাসা সফর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।তবে এই সফর অঞ্চলটির উপর তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করে।
তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা ১৯৫৯ সালে দেশত্যাগের পর থেকে ভারতে নির্বাসনে আছেন। দুই মাস আগে দালাই লামা ঘোষণা করেছেন যে, তার উত্তরসূরি নির্বাচন তার কার্যালয়ের মাধ্যমে হবে,চীনের মাধ্যমে নয়। তবে চীনের নেতা দাবি করেন যে,শুধু তাদেরই এই সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা রয়েছে। তার বক্তব্যে দালাই লামা’র কোনও উল্লেখ নেই।
৯০ বছর বয়সী দালাই লামা সবসময় ‘মধ্যম পথ’ প্রস্তাব করেছেন। কিন্তু বেইজিং তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে দেখেছে।
চীন দীর্ঘদিন ধরে দাবি করছে যে, তিব্বতীয়রা তাদের ধর্ম পালনে স্বাধীন। সেই ধর্ম একই সঙ্গে শতাব্দী প্রাচীন পরিচয়ের উৎস,যা মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেছে- বেইজিং ধীরে ধীরে ক্ষয় করছে।
জুনে বিবিসি যখন সিচুয়ান প্রদেশের একটি তিব্বতীয় মঠে গেছে, তখন সন্ন্যাসীরা অভিযোগ করেছিলেন যে, তিব্বতীয়দের মানবাধিকার অস্বীকার করা হচ্ছে এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টি তাদের দমন ও নির্যাতন করছে।
বেইজিং বলছে,তিব্বতে মানুষের জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত হয়েছে এবং তারা তাদের মানবাধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা দমন করছে না।
চীনা শাসনের বিরুদ্ধে ব্যর্থ বিদ্রোহের ছয় বছর পর, স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে ১৯৬৫ সালে তিব্বত প্রতিষ্ঠা চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। একে তারা শিজাং নামে ডাকে।
শির অপ্রত্যাশিত সফর সফরকে লাসায় উৎসবের মতো উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকাশিত ছবিতে তাকে তিব্বতীয় নর্তক এবং উল্লসিত জনতার সাথে দেখা গেছে।
শি’র সফরটি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মোটু জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নামে পরিচিত বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের এক মাস পর অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাঁধটি ইয়ারলুং স্যাংপো নদীতে তিব্বতীয় মালভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত।
তবে বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, নতুন বাঁধ নদী নিয়ন্ত্রণ বা দক্ষিণে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ,আসাম এবং বাংলাদেশে প্রবাহিত ইয়ারলুং স্যাংপো নদীর পথ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে চীনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।








