X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

রাশিয়া গ্যাস রফতানি কমালে ইউরোপের কী হবে?

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ২১:৩৩

রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তে উত্তেজনা যত বাড়ছে ইউরোপের বাসা-বাড়িতে তত ভর করছে ব্যয় বৃদ্ধির ভয়। ইউরোপের বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত গ্যাসের বড় যোগানদাতা রাশিয়া। উত্তেজনার মধ্যে ইতোমধ্যে ইউরোপে গ্যাসের দাম রেকর্ড ছুঁয়েছে। আর পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে জীবনযাত্রার ব্যয় কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা নিয়ে ইউরোপীয়দের কপালে দুশ্চিন্তার রেখা ফুটে উঠছে।

রাশিয়া ইউরোপে যে পরিমাণ গ্যাস রফতানি করে তার এক-তৃতীয়াংশ যায় ইউক্রেনের ভেতর দিয়ে যাওয়া পাইপলাইন দিয়ে। গত এক বছরে ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাসের প্রবাহ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এক-চতুর্থাংশ কমে গেছে। কিন্তু এখন ইউরোপীয় নেতাদের আশঙ্কা ইউক্রেনে আগ্রাসনে চালানোর সময় রাশিয়া যদি রফতানি আরও কমিয়ে দেয় তাহলে মহাদেশ জুড়ে জ্বালানি বিপর্যয় দেখা দেবে।

রাশিয়া-জার্মানির মধ্যকার নর্ড স্ট্রিম-২ পাইপলাইন প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছে ওয়াশিংটন

এই সপ্তাহে হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা বলেছেন, শীত ও বসন্তে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাইডেন প্রশাসন। মূলত গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ট্যাংকারের মাধ্যমে ইউরোপে নিতে চুক্তির মধ্যস্ততা করছে বাইডেন প্রশাসন। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জও কম নয়।

কোথা থেকে আসবে ইউরোপের জরুরি গ্যাস সরবরাহ?

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইউরোপের জন্য বিকল্প গ্যাস কার্গো খোঁজার চেষ্টা বিশ্বজুড়ে চলছে। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, তাদের নজর মূলত কাতারের দিকে। বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি উৎপাদক দেশ কাতার। অস্ট্রেলিয়ার পর এলএনজি’র দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানিকারকও তারা।

মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমাদের শক্তিশালী মিত্র কাতার। বহু বছর ধরেই দেশটি যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ট্যাংকারে করে এলএনজি রফতানি করে আসছে। লিবিয়াও একটি বড় বিকল্প হতে পারে। দেশটিতে গ্যাসের উৎপাদন বেড়েছে আর এটি ইউরোপের বেশি কাছাকাছি হওয়ায় ভালো বিকল্প উৎস হতে পারে।

ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেও সরাসরি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। গত কয়েক মাসে এলএনজি বহনকারী রেকর্ড সংখ্যক ট্যাংকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপীয় বন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। আর যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ দিন থেকেই ইউরোপকে রাশিয়ার গ্যাস নির্ভরতা থেকে বের করে আনতে চাইছে। নিজেদের মজুদকৃত গ্যাসের বিক্রি বাড়াতে রাশিয়া-জার্মানির মধ্যকার নর্ড স্ট্রিম-২ পাইপলাইন প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছে ওয়াশিংটন।

আর্কটিকে বুধবার সামরিক মহড়া চালায় রাশিয়া

ইউরোপে কী পরিমাণ জরুরি গ্যাস প্রয়োজন?

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার উত্তেজনা কত দূর গড়াবে তার ওপরই নির্ভর করবে ইউরোপের গ্যাস সংকটের ভয়াবহতা। রাশিয়া প্রতিদিন ইউরোপে প্রায় ২৩০ কিউবিক মিটার গ্যাস রফতানি করে। এর এক-তৃতীয়াংশ ইউক্রেনের মধ্য দিয়ে পশ্চিমে যায়। তবে রাশিয়া পুরো ইউরোপে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাবে নাকি ইউক্রেনের গ্যাস পাইপলাইনের ওপর নির্ভরকারীদের সরবরাহ কমাবে তা নিয়ে বাজার বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।

আরবিসি ক্যাপিটালের পণ্যবিষয়ক বৈশ্বিক প্রধান হেলিমা ক্রোফট বলেন, ‘রাশিয়া যদি তাদের জ্বালানি রফতানিকে অস্ত্র বানায় তাহলে কী পরিমাণ ঘাটতি তৈরি হবে? তা আগে ধারণা করা কঠিন।’ তবে তিনি বলেন, প্রশ্ন এটি নয় যে যুক্তরাষ্ট্র রুশ গ্যাস সরবরাহের বিকল্প তৈরি করবে কিনা বরং প্রশ্ন হলো ওয়াশিংটন কি ঘাটতি মেটানোর মতো গ্যাস পাওয়ার মতো যথেষ্ট উৎস পাবে?

ঘাটতি মোকাবিলায় যথেষ্ট গ্যাস কি আছে?

নরওয়েভিত্তিক জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান রিসতাদ এনার্জির বিশ্লেষক জি নান মনে করেন, করোনা মহামারি থেকে বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন ঘুরে দাঁড়ানের চেষ্টা করছে তখন বিকল্প গ্যাস পাওয়া সত্যিই কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য বলছে তাদের আলোচনা সত্যিই ব্যাপক আকারে চলছে। সারা দুনিয়ার বহু কোম্পানি ও দেশের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলমান। কোনও একটি কোম্পানি বা দেশ থেকে বিপুল গ্যাস না নিয়ে বরং একাধিক উৎস থেকে অল্প পরিমাণে নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

আরবিসি ক্যাপিটালের পণ্য বিষয়ক বৈশ্বিক প্রধান হেলিমা ক্রোফট বলেন, প্রশ্ন হলো যুক্তরাষ্ট্র কী এই ব্যবস্থায় কোনও শিথিলতা খুঁজে পাবে?

কাতার বর্তমানে প্রতি বছর ৭৭ কিউবিক টন এলএনজি উৎপাদন করে। কিন্তু এশিয়া, ইউরোপ, কুয়েত এবং বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ৯৭ কিউবিক টন রফতানির চুক্তি রয়েছে কাতারের। এসব দেশ ও কোম্পানি অবশ্য এলএনজি কোথায় পাঠাবে তা নিজেরা ঠিক করতে পারবে।

ইউক্রেনে ফ্রন্ট লাইনে রুশ প্রেসিডেন্টের একটি ছবি

হেলিমা ক্রোফট মনে করেন, চুক্তিতে এশিয়ায় যে গ্যাস পাঠানোর কথা রয়েছে তার বড় অংশ ইউরোপে ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এশিয়ায় শীতের মৃদু তাপমাত্রা এই অঞ্চলে গ্যাসের চাহিদা কমবে। তবে এই সরবরাহ নির্ভর করবে বড় গ্যাস উৎপাদক এবং তাদের এশিয়ার ক্রেতাদের সঙ্গে নিবিড় আলোচনার ওপর।

এরকম কিছু আগে হয়েছে?

বৈশ্বিক তেলের বাজারে জরুরি সরবরাহে পদক্ষেপ নেওয়ার বহু উদাহরণ থাকলেও গ্যাসের ক্ষেত্রে এরকম নজির নেই।

লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় সৌদি আরব বিশ্ব বাজারে তেল রফতানি বাড়াতে সম্মত হয়। ওই সময় লিবিয়ার তেল রফতানি কমে গেলে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম পৌঁছায় ১২০ ডলারে। আর তা কমাতে তেল উৎপাদন বাড়াতে রাজি হয় সৌদি আরব। সর্বশেষ করোনা মহামারির সময়ে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে নজিরবিহীন চুক্তির মাধ্যমে তেলের উৎপাদন কমায় রিয়াদ।

তবে গ্যাসের বাজারে একই ধরনের বৈশ্বিক সমন্বয় নেই। ফলে এই ধরনের বৈশ্বিক সংকট নিরসন আরও বেশি কঠিন।

হেলিমা ক্রোফট বলেন, ‘মোহাম্মদ বিন সালমান (সৌদি যুবরাজ) সৌদি আরবকে তেলের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে দেখেন। গ্যাসের বাজারে তাদের সমকক্ষ কেউ নেই। এমনকি কাতার যদি সাহায্য করতে চায়ও তাহলে তারা এমন কোনও খনির উপরে বসে নেই যেমনটি সৌদি আরব তেলের রিজার্ভের উপর বসে আছে।’

দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে।

 

ইউক্রেন সম্পর্কিত আরও খবর পড়তে ক্লিক করুন: ইউক্রেন

/এএ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি হাজারও মানুষ
সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি হাজারও মানুষ
চট্টগ্রামে জামায়াত-শিবিরের ৪৯ নেতাকর্মী আটক
চট্টগ্রামে জামায়াত-শিবিরের ৪৯ নেতাকর্মী আটক
‘স্তব্ধ দেশকে উন্নয়নের পথে ধাবিত করে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’
‘স্তব্ধ দেশকে উন্নয়নের পথে ধাবিত করে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’
বাস্তব শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান শিক্ষা উপমন্ত্রীর
বাস্তব শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান শিক্ষা উপমন্ত্রীর
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
পশ্চিমাদের পুতিনের হুমকি
পশ্চিমাদের পুতিনের হুমকি
অবরুদ্ধ মারিউপোল থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন
অবরুদ্ধ মারিউপোল থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন
পুতিন বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন: টনি ব্লেয়ার
পুতিন বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন: টনি ব্লেয়ার
ডনবাসে রাশিয়ার নতুন হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুত ইউক্রেন: জেলেনস্কি
ডনবাসে রাশিয়ার নতুন হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুত ইউক্রেন: জেলেনস্কি
রুশ তেলে ইইউ নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতায় অটল থাকবে হাঙ্গেরি?
রুশ তেলে ইইউ নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতায় অটল থাকবে হাঙ্গেরি?