তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান মনে করেন, ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের তুরস্ক সফর দুই আঞ্চলিক শক্তির দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি টার্নিং পয়েন্ট হবে এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত আঙ্কারা। বুধবার ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকের পর এসব কথা বলেন তিনি। ২০০৮ সালের পর ইসরায়েলি কোনও প্রেসিডেন্টের এটিই ছিল প্রথম তুরস্ক সফর। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এখবর জানিয়েছে।
ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল এবং গাজার নিয়ন্ত্রক হামাসকে আঙ্কারার সমর্থন নিয়ে চলমান বৈরিভাব নিরসনের চেষ্টা করছে তুরস্ক ও ইসরায়েল।
প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, আমি মনে করি এই ঐতিহাসিক সফর তুরস্ক-ইসরায়েল সম্পর্কের একটি নতুন টার্নিং পয়েন্ট হবে। দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করাই হলো আমাদের উভয়ের লক্ষ্য।
ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণ সাগরে খনন ও সিসমিক জাহাজের কর্মকাণ্ডের কথা ইঙ্গিত করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমি মনে করি অনেক আগে শুরু হওয়া জ্বালানি খাতে সহযোগিতা পুনরুদ্ধারের একটি সুযোগ।
এর আগে এরদোয়ান বলেছিলেন, ইউরোপের প্রাকৃতিক গ্যাস ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে কাজ করতে পারে দুই দেশ। প্রায় ২০ বছর আগে এই ধারণা নিয়ে প্রথম আলোচনা হয়েছিল।
ভূমধ্যসাগর থেকে গ্যাস সরবরাহ পেলে রাশিয়ার প্রতি ইউরোপের নির্ভরতা কমবে। বিশেষ করে ইউক্রেনে রুশ আক্রমণ ও জ্বালানিতে রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে যখন ইউরোপীয় নেতারা ডাক দিচ্ছেন তখন এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তুরস্ককে বাদ দিয়ে পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে ইউরোপে সমুদ্রপথে একটি পাইপলাইন স্থাপনের পরিকল্পনা আটকে যায় জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র সংশয় প্রকাশের পর।
ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট বলেন, দুই দেশকে অবশ্যই্ একমত হতে হবে যে আমরা সব বিষয়ে একমত হতে পারব না। কিন্তু আমরা দ্বিপক্ষীয় বিরোধ শ্রদ্ধা ও মঙ্গলকামনার মধ্য দিয়ে সমাধানে অনুপ্রাণিত হতে পারি। আপনি ও আমি, আপনাদের ও আমাদের জনগণ, আমরা সবাই ঈশ্বরে বিশ্বাসীদের পিতা আব্রাহামের সন্তান।









