ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের মধ্যে এস্তোনিয়ানরা রবিবার নতুন পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট হচ্ছে। এতে প্রধানমন্ত্রী কাজা ক্যালাসের ইউরোপ এবং কিয়েভপন্থী সরকারকে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে অতি-ডানপন্থীরা। তারা ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের প্রবেশ বন্ধের পাশাপাশি দেশকে সবুজ শক্তিতে রূপান্তর বন্ধ করতে চায়।
ঝুঁকি কী?
নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৯টি দলের কেউই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। যার অর্থ, জোটবদ্ধ হয়েই সরকার গঠন করতে হবে।
ক্যালাসের রিফর্ম পার্টির নেতৃত্বে বর্তমান জোট সরকার ইউক্রেনে আগ্রাসনের জন্য মস্কোর বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞাকে জোরালোভাবে সমর্থনের পাশাপাশি কিয়েভে পশ্চিমা অস্ত্র সরবরাহকের পক্ষে। এস্তোনিয়ার সীমান্তবর্তী রাশিয়ার হুমকির বিরুদ্ধে ন্যাটোর পূর্ব দিকের অংশকে শক্তিশালী করার আহ্বানও জানিয়েছেন এস্তোনিয়ার সরকারের নেতৃত্বদানকারী প্রথম নারী ক্যালাস।
যাইহোক, এটা নিশ্চিত নয় যে ক্যালাস সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট এবং রক্ষণশীল ইসামা (ফাদারল্যান্ড) পার্টির সঙ্গে তার জোট ধরে রাখতে পারবেন।
নির্বাচনে আরেকটি শক্তিশালী দল হলো অতি-ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী ইকেআরই পার্টি। জনমত জরিপে দলটি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ইকেআরই পার্টির নেতা মার্টিন হেলম দেশে আর কোনো ইউক্রেনীয় নাগরিককে আশ্রয় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
সম্ভাব্য জোটগুলো কী কী?
জনমত জরিপে ইকেআরই এগিয়ে থাকলেও বিশ্লেষকরা বলছেন দলটি সরকারে না-ও থাকতে পারী। কারণ ক্যালাস দলটিকে জোটের অংশীদার হিসেবে বাতিল করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রিফর্ম পার্টি, এস্তোনিয়া ২০০ এবং ইইউপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে একটি জোট সম্ভব; অন্যটি হতে পারে রিফর্ম পার্টি, সেন্টার এবং ইসামার মধ্যে।
অনলাইন ভোটিং
সোভিয়েত দখলদারিত্ব থেকে ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা লাভ করে এস্তোনিয়া। বর্তমানে এটি একটি ইইউ এবং ন্যাটোভুক্ত সদস্য। এবার হতে যাচ্ছে দেশটির নবম জাতীয় নির্বাচন।
রিগিকোগু আইনসভার ১০১ আসনের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৬৫ হাজার ভোটার ভোট দিচ্ছেন। এক-তৃতীয়াংশ রবিবার পর্যন্ত ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাদের ভোট দিয়েছেন। ১৫ শতাংশ ভোটার কাগজের ব্যালট আগাম পাঠিয়েছেন।
ভোট শেষ হবে স্থানীয় সময় রাত ৮টায়। অধিকাংশ নির্বাচনি জেলার ফল মধ্যরাতের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: ডয়েচে ভেলে









