রাশিয়াকে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সঙ্গে তুলনা করেছে ইউক্রেন। এক ইউক্রেনীয় সেনারা শিরশ্ছেদের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর এই এই তুলনা করলো কিয়েভ। একই সঙ্গে দেশটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-কে ঘটনাটি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। বুধবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
রয়টার্সের পক্ষ থেকে শিরশ্ছেদের ভিডিওটির সঠিকতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভিডিওতে দেখা গেছে, উর্দি পরা এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির শিরশ্ছেদ করছে। শিরশ্ছেদের শিকার ব্যক্তির বাহুতে হলুদ রঙের আর্ম ব্যান্ড রয়েছে। সাধারণত ইউক্রেনীয় সেনারা এই ব্যান্ড ব্যবহার করে।
রুশ ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এই শিরশ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে এক মার্কিন সাময়িকী নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এই ভিডিওকে আতঙ্কজনক বলে উল্লেখ করলেও সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে। অতীতে ইউক্রেনের রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে মস্কো।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, এটি এমন কিছু যা বিশ্বের কেউ উপেক্ষা করতে পারেন না। এই পশুরা কী সহজে হত্যা করে। সবকিছুর জন্য আইনি দায় থাকবে। সন্ত্রাসকে পরাজিত করা জরুরি।
ইউক্রেনীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা টুইটারে লিখেছেন, রুশ সেনারা এক ইউক্রেনীয় যুদ্ধবন্দিকে শিরশ্ছেদের ভয়ঙ্কর ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। আইএসের চেয়েও খারাপ রাশিয়া যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্ব করা পাগলামি। ইউক্রেন ও জাতিসংঘ থেকে রুশ সন্ত্রাসীদের তাড়িয়ে দিতে হবে এবং তাদের অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
সিরিয়া ও ইরাকে সক্রিয় থাকা জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস বন্দিদের শিরশ্ছেদের ভিডিও প্রকাশের জন্য কুখ্যাতি পেয়েচিল। ২০১৪-২০১৭ সাল পর্যন্ত দুই দেশের বিশাল ভূখণ্ড আইএসের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, সবার আগে আমাদের ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে। এপর এটি সত্যি না মিথ্যা, কী ঘটেছে এবং যদি ঘটে থাকে তাহলে কোথায় এবং কারা ঘটিয়েছে তা জানতে হবে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি অবিলম্বে এই ঘটনাটি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।









