দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে জয় উদযাপনে মে মাসে রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে সামরিক বিজয় প্যারেড আয়োজন করা হয়ে থাকে। এবার বেশ কয়েকটি অঞ্চলে এই প্যারেড আয়োজন করা হচ্ছে না। যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী কুর্স্ক ও বেলগোরদ অঞ্চলের গভর্নর স্থানীয় আয়োজন বাতিল করেছেন। এবার এই তালিকায় যোগ দিলো ক্রিমিয়া। নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বুধবার টেলিগ্রামে প্যারেড বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন রুশপন্থি নেতা সের্গেই আকসিয়োনভ।
টেলিগ্রামে আকসিয়োনভ লিখেছেন, ৯ মে বিজয় দিবস উদযাপনে সামরিক প্যারেড বা কুচকাওয়াজ আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিমিয়া ও সেভাস্তোপোল। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের র্যালিও আয়োজন করা হবে না। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে ইউক্রেন ক্রিমিয়া পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেওয়ার পর প্যারেড বাতিলের এই ঘোষণা আসলো।
প্রতি বছর মে মাসের ৯ তারিখ রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বিজয় প্যারেড আয়োজন করা হয়ে থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসীদের বিরুদ্ধে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে বিজয় উদযাপনে এই সামরিক প্যারেড আয়োজন করা হয়। রাশিয়ায় এই যুদ্ধকে মহান দেশাত্ববোধের যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়ার দখল নেয় রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অঙ্গীকার করেছেন, রাশিয়ার দখলকৃত এই উপদ্বীপ পুনরুদ্ধার করা হবে। ক্রিমিয়াসহ ইউক্রেনের দখলকৃত সব ভূখণ্ড থেকে রুশ সেনাদের প্রত্যাহারের পরই কেবল মস্কোর সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসবেন তিনি।
এর আগে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী কুর্স্ক ও বেলগোরদ অঞ্চলের গভর্নর স্থানীয় আয়োজন বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।
কুর্স্ক গভর্নর রোমান স্টারোভয়ত বলেছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে আঞ্চলিক রাজধানীতে কোনও বিজয় প্যারেড আয়োজন করা হবে না।
বেলগোরদ গর্ভন ভিয়াচেস্লাভ গ্লাডকভ বলেছেন, বিপুল সংখ্যক সেনা ও যানবাহন সমবেত করে শত্রুকে উসকানি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে আঞ্চলিক রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে প্যারেড আয়োজন করা হবে না।
তবে রাশিয়াবিরোধীরা বলছে, ইউক্রেনে যুদ্ধে রুশ ট্যাংক মোতায়েন থাকা প্যারেডে হাজির করার মতো ট্যাংকের ঘাটতি রয়েছে রাশিয়ার। ফলে বিভিন্ন শহর এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সূত্র: নিউজউইক
/এএ/









