পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগদানে ইউক্রেনের দীর্ঘ দিনের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান। শুক্রবার জোটের মহাসচিব জেন্স স্টোলটেনবার্গ বলেছিলেন, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের বিষয়ে সব ন্যাটো মিত্র দেশ রাজি আছে। তার এই মন্তব্যের পর এই বিষয়ে সংশয়ের কথা জানালেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
স্টোলটেনবার্গ ধারাবাহিকভাবে বলে আসছেন, রাশিয়ার আক্রমণ শেষ হওয়ার পর মধ্য মেয়াদে ন্যাটোতে যোগদান করবে ইউক্রেন।
কিন্তু ভিক্টর ওরবান ন্যাটো মহাসচিবের এই দাবি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন শুক্রবার এক শব্দের একটি টুইট বার্তায়।
টুইটারে স্টোলটেনবার্গের মন্তব্যের একটি প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় তিনি লিখেছেন, কী?!
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ৩১টি রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা জোট হলো ন্যাটো। বেশিরভাগ সদস্য ইউরোপের হলেও কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে জোটে। হাঙ্গেরির মতো যেকোন জোট মিত্র নতুন দেশকে সদস্য করার ক্ষেত্রে ভেটো দিতে পারে।
২০০৮ সালে হাঙ্গেরিসহ ন্যাটোর সদস্যরা একমত হয়েছিল এক সময় জোটের সদস্য হবে ইউক্রেন। কিন্তু দ্রুত সদস্য করার বিষয়টি তারা বাতিল করে দেন।
ন্যাটোর সদস্যরা জোটের দ্বারা সুরক্ষা পায়। ন্যাটোর ধারা-৫ অনুসারে, যেকোন সদস্য রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণকে সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর অর্থ হলো, ইউক্রেন যদি জোটের সদস্য হতো এবং আক্রমণের শিকার হতো তাহলে যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে ধরা হতো এবং সব মিত্র দেশ সহযোগিতায় অংশগ্রহণ করত।
দেশ পরিচিতি: হাঙ্গেরি
কিন্তু ১৯৯৯ সালে ন্যাটোতে যোগ দেওয়া হাঙ্গেরি জোটের সম্প্রসারণের বিরোধিতা করার ইঙ্গিত দিয়েছে। কয়েক মাস বিলম্বের পর মার্চ মাসে ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগদানে সম্মতি দিয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে সুইডেনের সদস্যপদ প্রদানের বিরোধিতায় তুরস্কের সঙ্গী হয়েছে হাঙ্গেরি।
ইউক্রেনের সঙ্গে হাঙ্গেরির সম্পর্কে উত্তেজনা রয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের খুব একটা সমালোচনা করেন না ভিক্টর ওরবান। ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের নিন্দা জানালেও কিয়েভকে কোনও অস্ত্র সহযোগিতা পাঠায়নি বুদাপেস্ট। এছাড়া ইউক্রেনের সঙ্গে ন্যাটোর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠকও ঠেকিয়ে আসছে হাঙ্গেরি।








