রাশিয়ার সামরিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই মস্কো অভিমুখে অভিযান গুটিয়ে নিয়েছেন ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ইয়েভজেনি প্রিগোজিন। তিনি আস্থা হারিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের। রাশিয়া থেকে নির্বাসিত হচ্ছেন এক সময়ের পুতিন মিত্র। কিন্তু এমন পরিস্থিতির পর এই বাহিনীর বিপুল সংখ্যক যোদ্ধার ভাগ্যে কী আছে, স্বতন্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে তারা যুদ্ধে নামতে পারবে কি না, প্রিগোজিন এখন কী করবেন, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।
পুতিন মিত্র বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর মধ্যস্থতায় প্রিগোজিন চলে যাচ্ছেন বেলারুশে। তবে তার যোদ্ধারা এরপর কী করবে তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। বিদ্রোহে যারা জড়িত ছিলেন না, তারা চুক্তি সাপেক্ষে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের অবস্থানে আবার ফিরতে পারবে বলে জানিয়েছে রুশ সরকার। অবশ্য ক্রেমলিন বলেছে, বিদ্রোহে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করা হবে। তবে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে কি না তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।
ওয়াগনারের আগের যুদ্ধ আর নতুনভাবে এই ফেরার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিবিসির পূর্ব ইউরোপের প্রতিনিধি সারাহ রেইন্সফোর্ড। তার মতে ওয়াগনার যোদ্ধারা এখন রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে যুদ্ধ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এতদিন স্বতন্ত্রভাবে ওয়াগনার গোষ্ঠীর জন্য যে অর্থ বরাদ্দ ছিল, অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠানো হতো, তা বন্ধ হয়ে যাবে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে সারাহ বলেছেন, পুতিন বিশ্বাসঘাতকদের পছন্দ করেন না। তাদের তিনি ঘৃণা করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের মস্কোর সাবেক ব্যুরো প্রধান জিল ডগার্ট বলেছেন, ‘পুতিন বিশ্বাসঘাতকদের কখনও ক্ষমা করেন না। ক্রেমলিনের কাছে ওয়াগনার প্রধান এখন একজন বিশ্বাসঘাতক।’
ফলে ক্রেমলিনের প্রতিশ্রুতি অনুসারে বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িত সেনাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা বিশ্বাস করা কঠিন।
দীর্ঘদিন যাবৎ স্বতন্ত্রভাবে যুদ্ধ করা স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার চেষ্টা করছিল রুশ সরকার। বিরোধিতা করে আসছিলেন প্রিগোজিন। কিন্তু এখন যেহেতু যুদ্ধে আর প্রিগোজিন থাকবেন না, তাই ওয়াগনার যোদ্ধারা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তি সই করবে কি না সে প্রশ্নের উত্তর এখনও অস্পষ্ট।
অনেক প্রশ্নের মধ্যে একটি হলো, ওয়াগনার বাহিনীকে ছাড়া যুদ্ধে কীভাবে এগোবেন পুতিন। বিবিসির বিশ্লেষণ বলছে, ববাবরের মতো শক্তি প্রদর্শন করেই প্রতিক্রিয়া দেখাবেন পুতিন। হয়ে উঠতে পারেন আরও বেশি স্বৈরাচারী ও নির্মম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্য ও সংবাদমাধ্যমে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারেন তিনি।
এছাড়া ইউক্রেন যদি আগামী সপ্তাহে ফ্রন্টলাইনে রাশিয়ার দুর্গ ভেঙে দেয়, তবে অবশ্যই ওয়াগনার যোদ্ধাদের দায়ী করবেন পুতিন।
পোল্যান্ডের ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য (এমইপি) রাডেক সিকোরস্কি বলেছেন, প্রিগোজিনের বিদ্রোহের পর পুতিন একই সঙ্গে দুর্বল ও শক্তিশালী হয়েছেন। এতে পুতিনের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। কারণ, একদল সশস্ত্র ব্যক্তি কোনও প্রতিরোধের মুখে না পড়েই রাশিয়ার ভেতরে কয়েক শ’ কিলোমিটার এগোতে পেরেছে।
সিকোরস্কি আরও বলেছেন, যারা বিদ্রোহীদের প্রতি সমর্থনসূচক অবস্থান নিয়েছিলেন তাদের নির্মূলের উদ্যোগ নেবেন রুশ নেতা। এর অর্থ হলো পুতিন আরও স্বৈরাচারী ও আরও নির্মম হয়ে উঠবেন।
এই বিদ্রোহের অবসান খুব দ্রুত হলেও আগামী কয়েক মাস এর প্রভাব থাকবে। রাজনৈতিক অস্থিরতায় রসদ জোগাবে এবং নেতৃত্ব দিতে পুতিনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। সূত্র: বিবিসি








