ইসরায়েলে হামাসের পর ফিলিস্তিনে উন্নয়ন সহযোগিতা বন্ধ করা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। সোমবার ইউরোপিয়ান কমিশনার ফর নেইবারহুড অ্যান্ড এনলার্জমেন্ট ওলিভার ভারহেলি ঘোষণা দেন, ফিলিস্তিনের জন্য বরাদ্দকৃত ৬৯১ মিলিয়ন ইউরো উন্নয়ন সহযোগিতা পর্যালোচনা এবং সব অর্থপ্রদান অবিলম্বে স্থগিত করা হবে। এই ঘোষণার পর কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার ওই কমিশনের নেই। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
হাঙ্গেরিয়ান ভারহেলিকে মনোনয়ন দিয়েছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান। যিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একজন কট্টর মিত্র। কমিশনার ভারহেলির এই ঘোষণায় অনেক ইউরোপীয় কর্মকর্তা অবাক হয়েছেন। কারণ মঙ্গলবার ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ফিলিস্তিনের সহযোগিতার ইস্যুটি আলোচনা হওয়ার কথা।
কূটনীতিকরা বলছেন, স্পেন, পর্তুগাল, লুক্সেমবার্গ ও আয়ারল্যান্ড প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছে এবং বেশ কয়েকটি দেশ আড়ালে বিরোধিতা করছে।
আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, কোনও একজন কমিশনারের এমন একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি এখতিয়ার নেই। আমরা সহযোগিতা স্থগিত করাকে সমর্থন করি না।
ভারহেলির ঘোষণা দেওয়ার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর কমিশন একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে নিশ্চিত করা হয়েছে, ত্রাণ সহযোগিতা পর্যালোচনায় রয়েছে। খুব শিগগিরই কোনও অর্থ পরিশোধের সূচি না থাকায় তা স্থগিত করার প্রশ্ন আসছে না।
ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল সংশয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনও বকেয়া পরিশোধ স্থগিত করবে না ব্লকটি। অথচ এর আগে কমিশন বলেছিল শিগগিরই কোনও অর্থ পরিশোধ করার সূচি নেই।
এই বিশৃঙ্খলার ব্যাখ্যা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইইউ কমিশন। তবে স্পষ্ট করা হয়েছে, মানবিক সহযোগিতা, যা উন্নয়ন তহবিল থেকে ভিন্ন, তা অব্যাহত থাকবে।









