ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা অঞ্চল এবং রুশ-অধিকৃত পূর্বাঞ্চলীয় শহর দোনেস্কে নববর্ষের দিন হামলার জন্য একে অপরকে অভিযুক্ত করেছে ইউক্রেন ও রাশিয়া। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া উভয় পক্ষের ক্রমবর্ধমান এ হামলায় ডোনেস্ক এবং ওডেসাতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে। সোমবার ( ১ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এই খবর জানিয়েছে।
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ‘একাধিক লঞ্চ রকেট সিস্টেম থেকে ব্যাপক গোলাবর্ষণের’ অভিযোগ এনেছেন ডোনেস্ক অঞ্চলের প্রধান রুশ-সমর্থিত ডেনিস পুশিলিন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনের হামলায় সেখানে চারজন নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে রাশিয়ার বিমান হামলায় ওডেসায় একজন নিহত হওয়ার দাবি করেছেন অঞ্চলটির গভর্নর ওলেহ কিপার।
কিপার বলেছিলেন, ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে নিযুক্ত ছিল। তবে পতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ শহরের বিভিন্ন অংশে আবাসিক ভবনগুলোতে পড়ে বেশ কয়েকটি স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে তিনজন আহত হয়েছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ওডেসার মেয়র হেনাদি ট্রুখানভের ভাঙা জানালাসহ একটি ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাপার্টমেন্টের ছবি প্রকাশ করেন।
ওই পোস্টে ট্রুখানভ বলেছেন, ‘বলা হয়, নতুন বছরকে আপনি কীভাবে স্বাগত জানাচ্ছেন তা পুরো বছরটি আপনি কীভাবে কাটাবেন তা প্রকাশ করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঠিক আছে। তবে এই বছর এই নিয়ম ভঙ্গ করবে ইউক্রেন: আমরা অধ্যবসায় করব এবং আমরাই জিতব।’
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী বলেছে, মাইকোলাইভ এবং ডিনিপ্রো অঞ্চলের পাশাপাশি লভিভ শহরকে লক্ষ্য করেও বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
শুক্রবার থেকে বিমান হামলার মাত্রা বেড়েছে। ওইদিন ইউক্রেনের প্রধান শহরগুলোর একটি ব্যারেজে প্রায় ১৫৮ টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন নিক্ষেপ করে রাশিয়া। এতে কমপক্ষে ৩০ জন নিহত এবং আরও ১৪০ জনেরও বেশি আহত হয়।
এর পর শনিবার রাশিয়ার সীমান্ত শহর বেলগোরোডে ইউক্রেনের হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত এবং ১১১ জন আহত হয়।
প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মস্কো রবিবার ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভকে লক্ষ্য করে একটি নতুন বিমান হামলা শুরু করে। এসময় তারা ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনসহ নিক্ষেপ করে।
যুদ্ধে বেসামরিক লোকদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি উভয় পক্ষই অস্বীকার করেছে।








