রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলগোরোড শহর এবং অধিকৃত ক্রিমিয়ায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) রাতে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি ইউক্রেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
রুশ কর্মকর্তারা বলছেন, আবারও আক্রমণের শিকার হয়েছে সীমান্ত শহর বেলগোরোড। তবে রুশ সেনারা বেশ কয়েকটি ইউক্রেনীয় ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত হওয়ার আগে আকাশেই ধ্বংস করেছে বলেও জানিয়েছেন তারা। শহরটিতে গত শনিবারও হামলা চালিয়েছিল ইউক্রেন। এতে ২৫ জন নিহত হয়েছিল।
রুশ কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপলেও একটি ইউক্রেনীয় ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।
সম্প্রতি, রাশিয়ায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। সাম্প্রতিক এসব হামলার জবাবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এরপরই বেলগোরোড ও ক্রিমিয়ায় এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সম্প্রতি, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আকাশযুদ্ধ তীব্রতর হয়ে উঠেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, গত পাঁচ দিনে প্রায় ৩০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২০০টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া।
গত সপ্তাহের শেষ দিকে ইউক্রেনের ওপর নতুন করে বোমা হামলা চালিয়েছিল দেশটি। এতে ৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন।
মঙ্গলবার রাতের নিয়মিত ভাষণে জেলেনস্কি বলেছিলেন, রাশিয়া সেদিন ‘বিভিন্ন ধরনের প্রায় ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র’ নিক্ষেপ করেছিল।
এই হামলার জবাবে শনিবার বেলগোরোডে পাল্টা হামলা চালিয়েছিল ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী। এতে শহরটির ১০০ জনের বেশি বাসিন্দা আহত হন।
বেলগোরোডের গভর্নর বলেছেন, বুধবার ভোর পর্যন্ত আরও বেশি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এ সময় অনেকগুলো ড্রোন ধ্বংস করা হয়।
টেলিগ্রাম বার্তায় মস্কো নিয়োজিত গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ বলেছেন, রুশ অধিকৃত ক্রিমিয়ার সবচেয়ে বড় শহর সেভাস্তোপলের বন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও গুলি চালানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) ইউক্রেনের খারকিভ ও কিয়েভের সবচেয়ে বড় শহরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে ৫ জন নিহত ও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া ইউক্রেনের হামলায় বেলগোরোডে একজন নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওকসানা মার্কারোভা বিবিসিকে বলেছেন, রাশিয়ার সাম্প্রতিক বোমা হামলায় ‘আশ্চর্য হওয়ার মতো কিছু ছিল না’। তবে যুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য ইউক্রেনের আরও অস্ত্রের প্রয়োজন। আর সেগুলো পাঠানোর মাধ্যমে রাশিয়াকে এই বার্তা দিতে হবে যে, তাদের এখন থামানো উচিত।








