ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৩০ জনের বেশি মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশকিছু বাড়িঘর ও অবকাঠামো। ওইদিন রাতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই তথ্য জানিয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
তিন বছরে গড়াতে চললো ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। এরইমধ্যে ইউক্রেনে হামলা আরও জোরদার করেছে রাশিয়া। খারকিভের পূর্বাঞ্চলীয় শহরে তিন দফায় হামলা চালিয়েছে রুশ সেনারা। কিয়েভ ও খেরসনের দক্ষিণাঞ্চলে অবিরাম গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।
রাতের নিয়মিত ভিডিও বার্তায় মঙ্গলবার জেলেনস্কি বলেছেন, বিভিন্ন ধরণের প্রায় ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। এসব ক্ষেপণাস্ত্র ২০০টির বেশি স্থানে আঘাত হানে। এসব স্থানের ১৩৯টিই বেসামরিকদের আবাস্থল। এতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে সাধারণ মানুষ বসবাস করতো।
খারকিভের মেয়র এবং গর্ভনর বলেছেন, ২৩ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে ক্রমাগত হামলার শিকার হওয়া এই শহরটিতে সর্বশেষ রুশ হামলায় আটজন নিহত হয়েছেন।
খারকিভের আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ সিনহুবভ বলেছেন, প্রথম দুটি হামলায় ১০০টিরও বেশি উঁচু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওইদিন সন্ধ্যায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক এবং অন্যান্য অবকাঠামোতে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করেছিল। এতে ৭ জন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ বলেছেন, বিভিন্ন ধরণের ৪৪টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যেম ২২টিই ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনী ধ্বংস করেছে।
কিয়েভ শহরের সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, সেখানে প্রায় ২০ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
এর আগে, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ। কিয়েভের প্রতিরক্ষাখাতে সহায়তার বিষয়ে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়াচ্ছে।
তখন তিনি আন্তর্জাতিক মন্ত্রীদের জানিয়েছিলেন, গত দুই মাসে ৬০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং এক হাজারটিরও বেশি ড্রোন ব্যবহার করেছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী।
ওই বৈঠকের পর ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস। তিনি বলেছিলেন, চলতি বছরের শেষের দিকে ইউক্রেনকে ছয়টি ‘সি কিং’ হেলিকপ্টার দেবে বার্লিন।








