জেনারেল ভ্যালেরি জালুঝনিকে বরখাস্তের বিষয়ে ভাবার কথা স্বীকার করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রবিবার (৫ জানুয়ারি) ইতালির আরএআই টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে প্রথমবারের মতো কথা বলেছেন তিনি। তার এমন মন্তব্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধরত জাতিকে হতবাক করেছে। একইসঙ্গে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে দেশটির পশ্চিমা মিত্রদেরকেও। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এই খবর জানিয়েছে।
জালুঝনিকে বরখাস্তের বিষয়ে জানতে চাইলে রবিবার ইতালির আরএআই টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেছিলেন, তিনি আসলে দেশের বৃহত্তর স্বার্থের কথাই ভাবছেন। তিনি বলেন, দেশটির সেনাবাহিনীতে ‘প্রতিস্থাপন ও নতুন সূচনা প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘প্রতিস্থাপনের কথা ভাবছি ঠিকই, তবে আমরা বলছি না এখানে একক কোনও ব্যক্তিকে প্রতিস্থাপন করা হবে। সামরিক বাহিনীর মতো একক কোন সেক্টরে একজন ব্যক্তির প্রতিস্থাপন নয়, বরং ধারাবাহিকভাবে দেশের নেতাদের প্রতিস্থাপনের কথাও ভাবছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমরা জয়ী হতে চাই, তবে আমাদের সবাইকে একটি দিক নির্দেশনা মেনে একই পথে চলতে হবে।’
জেলেনস্কির এমন মন্তব্য দেশটির জনপ্রিয় সেনাপ্রধান জেনারেল ভ্যালেরি জালুঝনিকে বরখাস্তের বিষয়টিই যেন নিশ্চিত করছে।
এর আগে, দ্য ইকোনমিস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনীয় এই জেনারেল রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার কথা স্বীকার করেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রেক্ষিতে ফাটল ধরেছে জেলেনস্কি-জালুঝনির সম্পর্কে।
ইউক্রেন ও পশ্চিমা একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে থেকে জানা যায়, গত সপ্তাহে জালুঝনিকে পদত্যাগ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন জেলেনস্কি। তবে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন জেনারেল জালুঝনি। এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।
গত বছর রুশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে একটি পাল্টা আক্রমণ করে ইউক্রেনীয় বাহিনী। তবে এ আক্রমণে অঞ্চলটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করতে ব্যর্থ হয় তারা। এরপর থেকেই জালুঝনিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। এছাড়া, বিভিন্ন বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বিরোধেও জড়িয়েছিলেন জালুঝনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলেনস্কির কার্যালয়ের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছিল, নতুন সেনা মোতায়েনের বিষয় নিয়ে দুইজনের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে আরও ৫ লাখ সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন জালুঝনি। তবে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সেটি প্রত্যাখ্যান করেন। এছাড়া এই সেনাদের কীভাবে সংগঠিত করা হবে বা তাদেরকে কীভাবে বেতন দেওয়া হবে তা নিয়েও বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন জেলেনস্কি।
এদিকে, জালুঝনির বরখাস্ত নিয়ে জেলেস্কির করা মন্তব্যের পর এ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তিনি বলেছেন, জালুঝনিকে বরখাস্ত করা নিয়ে ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতি দেশটির নেতৃত্বের ফাটলকেই প্রকাশ করছে।








