রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তুগুলোতে দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে ন্যাটো মিত্রদের আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন। দেশটি বলেছে, এমনটি করা হলে মস্কোর সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধে এটি একটি ‘গেম-চেঞ্জার’ হবে। বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) এসব কথা বলেছে ইউক্রেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
ওয়াশিংটনে একটি শীর্ষ সম্মেলনে বুধবার ইউক্রেনের সমর্থনে একটি ঘোষণা জারি করেছে ন্যাটো সদস্যরা। ঘোষণাটিতে ইউক্রেনকে অতিরিক্ত সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ন্যাটো সদস্যপদ পাওয়ার জন্য ইউক্রেনের জন্য একটি ‘অপরিবর্তনীয় পথ’ও ঘোষণা করছেন নেতারা।
ওয়াশিংটনে ৩২টি ন্যাটো রাষ্ট্র তিনদিন ব্যাপী বৈঠক করে। বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘এই শীর্ষ সম্মেলনে আমরা ইউক্রেনের জয়ের ভিত্তি স্থাপন করছি।’
‘আজ আমরা মস্কোকে ঐক্যের একটি শক্তিশালী বার্তা এবং সংকল্প পাঠাচ্ছি যে, সহিংসতা এবং ভয়ের কোনও মূল্য নেই। দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিতে ইউক্রেন এখন ন্যাটোর ওপর নির্ভর করতে পারে।’
এর আগে, মিত্রদের ইউক্রেনের জন্য তাদের ঐক্যবদ্ধ সমর্থন রক্ষার আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। নতুন সহায়তা দ্রুত সরবরাহ করার ওপর জোর দিয়েছিলেন তিনি।
জেলেনস্কি বলছিলেন, ‘আমাদের জিততে হলে, আমরা বিজয়ী হতে চাইলে, আমাদের দেশকে বাঁচাতে এবং সেটিকে রক্ষা করতে চাইলে আমাদের ওপর থেকে সব সীমাবদ্ধতা তুলে নিতে হবে।’
জেলেনস্কির মন্ত্রিপরিষদের প্রধান আন্দ্রেই ইয়ারমাক একটি পাবলিক ফোরামকে বলেছেন, রাশিয়ার অস্ত্র ব্যবহারে কোনও বিধিনিষেধ নেই। তাই ইউক্রেনের মিত্ররা যদি দেশটিতে সরবরাহ করা অস্ত্রের ব্যবহারের ওপর সব সীমাবদ্ধতা তুলে ফেলে, তবে যুদ্ধক্ষেত্রে সত্যিকার অর্থেই এটি একটি ‘গেম-চেঞ্জার’ হবে।
ইউক্রেন কীভাবে তাদের দেওয়া অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে সে বিষয়ে বিভিন্ন মত দিয়েছেন ন্যাটো সদস্যরা। কেউ কেউ স্পষ্ট করে বলেছেন, রাশিয়ার গভীরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে কিয়েভ সেগুলো ব্যবহার করতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তাদের দেওয়া অস্ত্র ব্যবহার করে শুধু রাশিয়ার সীমান্তের ভিতরের লক্ষ্যবস্তুগুলোতেই আঘাত করতে পারবে ইউক্রেন।








