রুশ ‘গুপ্তচর তিমি’ হিসেবে পরিচিত নরওয়ের জনপ্রিয় সাদা বেলুগা তিমি হালদিমিরের মৃত্যু রহস্যের জন্ম দিয়েছে। প্রাণী অধিকার গোষ্ঠীগুলো দাবি করছে, তিমিটিকে সম্ভবত গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ২০১৯ সালে রাশিয়ার গুপ্তচর তিমি হিসেবে সন্দেহভাজন হালদিমিরের দেহে একটি বিশেষভাবে তৈরি হার্নেস পরা অবস্থায় পাওয়া যায়, যা ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ডিজাইন করা ছিল। এরপর থেকেই তিমিটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।
বুধবার দুটি নরওয়েজিয়ান প্রাণী অধিকার সংগঠন ওয়ানহোয়েল ও নোহ দাবি করেছে, হালদিমিরকে গুলিতে হত্যা করা হয়েছে। সপ্তাহান্তে দক্ষিণ নরওয়েতে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। সংগঠনগুলো এই ঘটনার ফৌজদারি তদন্তের দাবি করেছে।
ওয়ানহোয়েল ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লিখেছে, প্রমাণ থেকে স্পষ্ট যে হালদিমিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। একাধিক পশুচিকিৎসক, জীববিজ্ঞানী এবং ব্যালিস্টিক বিশেষজ্ঞরা হালদিমিরের আঘাতের প্রমাণ বিশ্লেষণ করেছেন এবং এটির অপরাধমূলক কাজ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
পোস্টটিতে তিমিটির দেহে রক্তের দাগ ও ছিদ্রের ছবি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে সিএনএন স্বতন্ত্রভাবে এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। সংগঠনগুলো সান্ডনেস পুলিশ জেলা এবং নরওয়ের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত অপরাধ তদন্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করেছে।
সাউথওয়েস্টার্ন পুলিশ জেলা সিএনএন-কে জানিয়েছে, তারা হালদিমিরের মৃত্যুর তদন্তের অনুরোধ পেয়েছে, তবে এখনও আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি। পুলিশ সুপার ভিক্টর ফেন-জেনসেন জানান, আমাদের কাছে এরকম মামলা আগে আসেনি।
তবে তিনি তিমিটির রাশিয়ার গুপ্তচর হওয়ার গুজব তদন্ত করা হয়েছে কিনা, তা নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি আরও বলেন, হালদিমির অনেকটা সেলিব্রিটির মতো ছিল।
২০১৯ সালে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন যে হালদিমির একটি প্রশিক্ষিত তিমি এবং এটি রাশিয়া থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হয়।









