সুইজারল্যান্ডের একটি আপিল আদালত ইসলামি পণ্ডিত তারিক রমাদানকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে। জেনেভার আদালত ৬২ বছর বয়সী সাবেক এই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে এক নারীকে হোটেলে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আগের খালাসের রায় বাতিল করে তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে, যার মধ্যে দুই বছর স্থগিত থাকবে। এই রায় ২৮ আগস্ট ঘোষণা করা হলেও মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) তা প্রকাশ্যে আসে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতিষ্ঠাতা হাসান আল-বান্নার নাতি রমাদান এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। অভিযোগকারী সুইস নারী, যিনি ‘ব্রিজিট’ নামে পরিচিত, দাবি করেছেন যে রমাদান তাকে ধর্ষণ ও সহিংস যৌন আচরণে লিপ্ত হয়েছিলেন। তার আইনজীবী আরও বলেন, এই নারীকে বারবার ধর্ষণ করা হয় এবং তাকে ‘নির্যাতন ও বর্বরতার’ শিকার হতে হয়েছিল।
এর আগে একটি নিম্ন আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাব ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে রমাদানকে খালাস দিয়েছিল। তবে নতুন রায়ের বিরুদ্ধে তিনি সুইস ফেডারেল আদালতে আপিল করতে পারবেন।
রমাদান ইউরোপের ইসলামি জগতের একজন প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ২০০০-এর দশকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে তিনি ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়াজুড়ে লেকচার দিতেন এবং সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় নিয়মিত অংশ নিতেন। ২০০৪ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
তবে ২০০৯ সালে ফ্রান্সে তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে তার পতন শুরু হয়। ২০১৬ সালের মধ্যে চারজন ফরাসি নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। ২০১৮ সালে সুইস নারী তার অভিযোগ দায়ের করেন, অন্য অভিযোগকারীদের সাহস দেখে তিনি এগিয়ে এসেছিলেন।
রমাদান দাবি করেন, তিনি কোনও নারীসঙ্গীকে ‘পূর্ব আলোচনা ছাড়া’ কোনও যৌন আচরণে যুক্ত করেননি। যখন এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে, তখন তিনি অক্সফোর্ডে ১২ বছরের অধ্যাপনা স্থগিত রাখেন। ২০১৮ সালে বিয়ে বহির্ভূত যৌন সম্পর্কের কথা স্বীকার করার পর ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের একাংশের কাছে তার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস ও বিষণ্নতায় ভুগছেন দাবি করে রমাদান অকাল অবসর নিয়েছিলেন।









