ইউক্রেনকে পশ্চিমা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ায় হামলার অনুমতি দিলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ, এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে ক্রেমলিন। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) মস্কো বলছে, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সরাসরি যুদ্ধে জড়িত হওয়ার ইঙ্গিত বহন করবে এবং রাশিয়ার পাল্টা জবাবের মুখে পড়তে হবে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে এমন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মস্কো মনে করছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে রাশিয়া উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া জানাবে।
পেসকভ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো সরাসরি এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে এবং প্রতিটি নতুন পদক্ষেপ এই সম্পৃক্ততার মাত্রা বাড়াচ্ছে।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিকে অনুরোধ করেছেন যেন যুক্তরাষ্ট্রের এটিএসিএমএস ও ব্রিটিশ স্টর্ম শ্যাডো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ায় হামলার জন্য ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইউক্রেনকে দূরপাল্লার অস্ত্র সরবরাহ করতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। কারণ এতে যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত ও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মঙ্গলবার জানান, ইউক্রেনকে এমন অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
রাশিয়ার পার্লামেন্ট ডুমার চেয়ারম্যান ভায়াচেস্লাভ ভলোদিন বলেছেন, ইউক্রেন রাশিয়ায় পশ্চিমা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করলে মস্কো আরও শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র প্রয়োগে বাধ্য হবে।
রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেন, নতুন করে দূরপাল্লার এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে পাঠালে তা রাশিয়ার পক্ষ থেকে ধ্বংস করা হবে। যেমন আগের মার্কিন অস্ত্র ইউক্রেনের হাতে দেওয়ার পর আমরা তা ধ্বংস করেছি, এবারও তাই হবে। তবে ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা ১৯০ মাইল (৩০৫ কিমি) এবং ব্রিটিশ স্টর্ম শ্যাডোর পাল্লা ১৫৫ মাইল (২৪৯ কিমি)। ইউক্রেন এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে রুশ ভূখণ্ডের অভ্যন্তরীণ ঘাঁটিতে হামলা চালানোর সুযোগ চাইছে।









