রাশিয়া ইউক্রেনে সংঘাত শুরু করেছিল এবং দেশটিই ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ এটি শেষ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই খবর জানিয়েছে।
রাশিয়ায় পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করাকে মস্কো যুদ্ধের গুরুতর বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচনা করবে বলে সতর্ক করেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার এমন সতর্কবাণীর উচ্চারণের পরই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্য এলো।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে পুতিন বলেছেন, এর অর্থ ‘ইউক্রেনের যুদ্ধে ন্যাটো দেশগুলোর- যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো-সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া আর কিছুই নয়।’
কিয়েভের মিত্ররা রাশিয়ার অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার জন্য ইউক্রেনকে অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনার করতে একত্রিত হয়েছেন। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দিতে শুক্রবার ওয়াশিংটনে রয়েছেন কিয়ার স্টারমার।
পুতিন বলেন, ‘এটি তাদের সরাসরি অংশগ্রহণ বৈ আর কিছু নয় এবং অবশ্যই এটি সংঘাতের প্রকৃতি পরিবর্তন করবে।’
এসময় তিনি আরও বলেন, ‘যদি তাই হয় তবে, আমরাও আমাদের জন্য তৈরি রাখা হুমকির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নেব।’
ওয়াশিংটনে তার ফ্লাইটে পুতিনের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে, প্রধানমন্ত্রী একটি দৃঢ় সুরে বারবার বলেছিলেন, যুদ্ধটা রাশিয়াই শুরু করেছে।
তিনি বলেছিলেন, ‘রাশিয়া এই সংঘাত শুরু করেছে। রাশিয়া অবৈধভাবে ইউক্রেন আক্রমণ করেছে। রাশিয়াই অবিলম্বে এই সংঘাত শেষ করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আবারও বলছি, এটি রাশিয়াই প্রথম এটি শুরু করেছিল। তারাই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত করেছে। তারাই বেআইনি কাজ করছে।’
প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র সচিব ডেভিড ল্যামি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপে রয়েছেন। কেননা, রাশিয়ার প্রতি সমর্থন বাড়ানোয় ইরানকে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে তা নিয়ে আলোচনা করছে ইউক্রেনের মিত্ররা।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে কিয়েভ সফরের সময় ল্যামি বিবিসিকে বলেছিলেন, এটি ‘স্পষ্টভাবে বিতর্ককে পরিবর্তন করে।’
ওয়াশিংটন থেকে ফেরার পরদিন রবিবার প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সেঙ্গ দেখা করতে রোমে যাবেন।
ইতালি বর্তমানে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ এর চক্রাকার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছে।
এক সপ্তাহ পর জাতিসংঘের বার্ষিক সাধারণ পরিষদের জন্য নিউইয়র্কে জড়ো হবেন বিশ্ব নেতারা।
ইউক্রেনকে রাশিয়ায় পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বিধা ছিল। কেননা, এই সিদ্ধান্তকে আগুনে ঘি ঢালার মতো পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশগুলো ও অন্যদের সরাসরি সংঘাতে টানতে পারে।
তবে শীতকাল ঘনিয়ে আসায় এবং ইরানের কাছ থেকে রাশিয়া অতিরিক্ত সমর্থন পাওয়ায় পশ্চিমারা নিজেদের মন পরিবর্তন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।








