যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে এখনও আলোচনা চলছে। রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একটি মাত্র অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ জেতা সম্ভব নয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ল্যামি বলেন, ইউক্রেনকে সমর্থন করা দেশগুলোর একটি ‘সমন্বিত কৌশল’ থাকা জরুরি। বর্তমানে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স ইউক্রেনকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে। তবে ইউক্রেন এখনও সেগুলো শুধু নিজের সীমানার ভেতরেই ব্যবহার করতে পারে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দীর্ঘদিন ধরে এই সীমাবদ্ধতা প্রত্যাহারের জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছেন, যাতে তারা রাশিয়ার অভ্যন্তরে আক্রমণ করতে পারে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও বুধবার ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মধ্যে বৈঠকের পরেও নিশ্চিত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
ল্যামি বলেন, ইউক্রেনকে শীতকালের জন্য প্রস্তুত করার অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে তিনি নিশ্চিত করেননি যে ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে আক্রমণের জন্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে কি না।
তিনি আরও জানান, আগামী ১২ দিনের মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোর সাবেক উপ-সর্বোচ্চ কমান্ডার জেনারেল স্যার জন ম্যাককল মনে করেন, ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আরও সাহসী করে তুলছে ও ইউক্রেনের হতাশা বাড়াচ্ছে।
রাশিয়া সম্প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছে যে, ইউক্রেনকে রাশিয়ার ভেতরে আক্রমণের অনুমতি দেওয়া হলে এটিকে যুদ্ধে ন্যাটোর সরাসরি অংশগ্রহণ হিসেবে গণ্য হবে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি নতুন আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, রাশিয়া আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র, ৮০০টিরও বেশি বোমা এবং প্রায় ৩০০ ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। আমাদের প্রতিরক্ষা শক্তি ও দূরপাল্লার অস্ত্র সহায়তা প্রয়োজন।









