ইউক্রেনের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার দাবি করেছেন, ইউক্রেনের বাহিনী রাশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী হামলা প্রতিহত করছে। এই আক্রমণটি যুদ্ধের শুরু থেকে রাশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী আক্রমণ ছিল। শনিবার (২ নভেম্বর) ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওলেক্সান্ডার সিরস্কি নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে এই দাবি করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
সেপ্টেম্বর মাসে রুশ বাহিনী আগের তুলনায় দ্রুত অগ্রসর হতে শুরু করে। এটিকে গত বছরের মার্চের পর সবচেয়ে দ্রুত অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, আগস্টে ইউক্রেন রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলের একটি অংশ দখল করে।
জেনারেল ওলেক্সান্ডার সিরস্কি লিখেছেন, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী রাশিয়ার একটি অন্যতম শক্তিশালী আক্রমণকে প্রতিহত করছে।
যুদ্ধের শুরুতে রাজধানী কিয়েভ দখলে ব্যর্থ হওয়ার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধের লক্ষ্য পরিবর্তন করে পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস শিল্পাঞ্চল দখলের দিকে মনোনিবেশ করেন। ডনবাস মূলত লুহানস্ক ও ডনেস্ক অঞ্চল নিয়ে গঠিত। ডনবাস অঞ্চলই বর্তমানে যুদ্ধের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সেখানে শতাব্দীর অন্যতম বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে এবং উভয় পক্ষের হাজার হাজার সেনা প্রাণ হারিয়েছে।
শনিবার মস্কো জানিয়েছে, তারা ডনবাস ফ্রন্টলাইনের আরও দুটি স্থাপনা দখল করেছে। রুশ সংবাদমাধ্যম এজেন্টসভো জানিয়েছে, অক্টোবরের ২০-২৭ তারিখে রাশিয়া প্রায় ২০০ বর্গকিলোমিটার ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড দখল করে নিয়েছে। যা ইউক্রেনীয় ওপেন সোর্স মানচিত্র বিশ্লেষণ করে করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
রুশ বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ এখন এক বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করছে। পূর্বাঞ্চলে মস্কোর বাহিনী অগ্রসর হচ্ছে এবং উত্তর কোরিয়া রাশিয়ায় সেনা পাঠিয়েছে। এদিকে পশ্চিমারা এই সংঘাত অবসানের উপায় খুঁজছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বিভিন্ন দেশ সফর করে ন্যাটো দেশগুলোর কাছে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি চাইছেন। এই অনুমতি পেলে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী রাশিয়ার গভীরে আঘাত হানতে পারবে।
ইউক্রেন বর্তমানে কঠিন এক শীতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। দূরপাল্লার রুশ বিমান হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক ধ্বংস হয়ে গেছে। এই কারণে আসন্ন শীতকালে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ইউক্রেনকে কষ্টকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।









