জার্মানির মধ্য-বামপন্থি ঘরানার চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের ভাঙনের পর আস্থা ভোটের দাবি তুলেছেন দেশটির মধ্য-ডানপন্থি বিরোধী নেতা। ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ)-এর প্রধান এবং সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মের্কেলের দলের নেতা ফ্রিডরিখ মের্জ বৃহস্পতিবার শলৎজের আস্থা ভোটের সময়সূচি এগিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
বুধবার রাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডনারকে বরখাস্ত করার পর শলৎজ জানিয়েছিলেন যে, জানুয়ারিতে একটি আনুষ্ঠানিক আস্থা ভোটের আয়োজন করা হবে। যা মার্চ মাসে একটি আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি করবে। তবে বৃহস্পতিবার সকালে মের্জ বলেন, আস্থা ভোট জানুয়ারিতে আয়োজন করার কোনও কারণ নেই।
শলৎজের তিন-দলীয় জোটকে ‘ট্রাফিক লাইট’ উল্লেখ করে মের্জ বলেন, ‘এই জোটের মেয়াদ শেষ’।
মের্জ আরও বলেন, তার দল পার্লামেন্টে আস্থা ভোট আয়োজনের জন্য সর্বসম্মতভাবে শলৎজকে সময়সূচি এক সপ্তাহের মধ্যে এগিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে। আস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হলে জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নিতে ২১ দিন সময় পাবেন। যা জানুয়ারির শেষের দিকে একটি নির্বাচনের পথ খুলে দিতে পারে।
অর্থনৈতিক নীতিমালা নিয়ে তীব্র বিতর্ক জোটের মধ্যে ফাটলের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। ফ্রিডরিখ মের্জ জানান, সিডিইউ ও অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে বাজেট সংক্রান্ত বিষয়ে একমত হওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে শলৎজের সরকারের দীর্ঘসূত্রিতা পরিস্থিতি জটিলতর করছে।
সিডিইউর বাভারিয়ান শাখার নেতা আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট বলেছেন, জার্মানির বর্তমান দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পখাতে সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণের সঙ্গে এমন অশ্রদ্ধাশীল আচরণ করা যাবে না।
বিরোধীদল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) এখন জরিপে শলৎজের সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এসপিডি) চেয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছে। তারা দ্রুত নতুন নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। এএফডি ও নতুন রক্ষণশীল বামপন্থি দল সারা ওয়াগেনকনেখট অ্যালায়েন্স (বিএসডব্লিউ) সম্প্রতি স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে ভালো ফল করেছে। এদের সাফল্য আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই আস্থা ভোটের প্রভাবও বিশাল হতে পারে। ইউক্রেন সংকটের সময় শলৎজের সরকারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা চলছে। ফ্রিডরিখ মের্জ বলেছেন, তিনি ইউক্রেনকে সমর্থন করে যাবেন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন সংকটে পড়ার আশঙ্কার কারণে। এছাড়া, ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে জার্মানির নেতৃত্বদানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন গ্রিন পার্টির পররাষ্ট্র মন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক।
জার্মানির রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আস্থা ভোটের ফলাফলে উগ্রপন্থি দলগুলো বাড়তি সমর্থন পেতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওল্ফগ্যাং শ্রয়েডার বলেন, জার্মান জনগণের ৭০-৮০ শতাংশ একটি স্থিতিশীল ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব চায়, যা সংকটময় মুহূর্তে চরমপন্থিদের প্রভাব কমিয়ে আনতে পারে।









