এতদিন কঠিন শর্ত দিয়ে আসলেও এবার কুটনীতির মাধ্যমে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শেষ করতে চান ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শনিবার (১৬ নভেম্বর) প্রচারিত একটি রেডিও সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, আগামী বছর যুদ্ধ শেষ করতে ইউক্রেন অবশ্যই যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়লাভ ও যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রগতির মধ্যেই ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের মন্তব্যটি এলো। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
জেলেনস্কি বলেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি শান্তি চুক্তিতে সম্মত হতে আগ্রহী নন। এ সময় তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সময় আলোচনায় বসাটা মস্কোর পক্ষে সুবিধাজনক।
ইউক্রেনীয় রেডিও সাক্ষাত্কারে জেলেনস্কি বলেছিলেন, ‘আমাদের অবশ্যই সবকিছু করতে হবে যাতে এই যুদ্ধ আগামী বছর শেষ হয়, কূটনৈতিক উপায়েই শেষ হয়।’
জেনেভায় জাতিসংঘে মস্কোর রাষ্ট্রদূত বৃহস্পতিবার বলেছেন, ট্রাম্প উদ্যোগ নিলে তবেই রাশিয়া যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনার করতে উন্মুক্ত থাকবে। তবে সেগুলোকে ‘বাস্তবতা’ স্বীকার করতে হবে বলে জানান তিনি।
মস্কো এই শব্দটি ব্যবহার করে ইউক্রেনকে চারটি অঞ্চল ছেড়ে দিতে হবে যেগুলো রুশ বাহিনী আংশিকভাবে দখল করেছে এবং রাশিয়া সেগুলো সম্পূর্ণরূপে দাবি করেছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার সর্বাত্মক আক্রমণের পর থেকে জেলেনস্কি বারবার বলেছেন, সব রুশ বাহিনীকে বহিষ্কার না করা এবং ক্রিমিয়াসহ মস্কোর দখলকৃত সব অঞ্চল ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে না।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইউক্রেনের ১৯৯১ সালের সীমানায় ফিরে যাওয়ার কথাটি জেলেনস্কির ‘বিজয় পরিকল্পনা’তে উল্লেখ করা হয়নি, যেটি তিনি গত মাসে প্রকাশ্যে উপস্থাপন করেছিলেন।
জেলেনস্কি বলেছিলেন, ট্রাম্পের অধীনে যুদ্ধটি দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। ট্রাম্প প্রায়ই তার নির্বাচনি প্রচারণায় বলেছেন, তিনি ক্ষমতায় এলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই সংঘাতের অবসান ঘটাবেন। তবে ঠিক কীভাবে তিনি তা করবেন এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছি বলেননি।
জেলেনস্কি বলেছেন, মার্কিন আইনের অধীনে, ২০ জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তার সঙ্গে দেখা করতে বাধা রয়েছে। জেলেনস্কি বলেছেন, কোনও দূত বা উপদেষ্টা নয়, তিনি শুধু ট্রাম্পের সঙ্গেই আলাপ করবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সবকিছু করব যা আমাদের করা উচিত। সেপ্টেম্বরে আমাদের মধ্যে সত্যিই একটি ভালো বৈঠক হয়েছিল।’








