আকাশ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সরঞ্জাম উন্নয়নে ইউরোপের যৌথ উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ নভেম্বর ২০২৪, ২৩:৪৫আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৪, ২৩:৪৫

রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি হ্রাসের আশঙ্কায় ইউরোপের দেশগুলো প্রতিরক্ষা খাতে নতুন করে জোর দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

মঙ্গলবার ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা (ইডিএ) চারটি নতুন প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছে। এতে আকাশ প্রতিরক্ষা, গোলাবারুদ, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও একটি ইউরোপীয় যুদ্ধজাহাজের উন্নয়নে দেশগুলোর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ সম্প্রতি প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি করেছে। রাশিয়ার আক্রমণের ফলে এই অঞ্চলে উচ্চ-তীব্রতার যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো নেতার অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর প্রতি তার প্রতিশ্রুতি কমিয়ে দিতে পারে।

ইইউ’র পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জোসেপ বোরেল বলেন, জাতীয় পর্যায়ের প্রচেষ্টা প্রয়োজনীয় হলেও তা যথেষ্ট নয়। ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আমাদের সমন্বিত উদ্যোগ এবং ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রস্তুতি বাড়ানোর দাবি করছে।

এই প্রকল্পগুলোর লক্ষ্য হলো ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা বাজারে সংহতি আনা এবং অস্ত্র ক্রয় ও উন্নয়নে ভালো মূল্য নিশ্চিত করা। ইডিএর তথ্যমতে, ১৮টি দেশ আকাশ প্রতিরক্ষায় সহযোগিতা করবে, ১৭টি দেশ লুইটারিং গোলাবারুদ উন্নয়নে কাজ করবে, ১৪টি দেশ ইলেকট্রনিক যুদ্ধের প্রযুক্তি উন্নয়ন করবে এবং ৭টি দেশ ইউরোপীয় যুদ্ধজাহাজ তৈরিতে যুক্ত হবে।

 ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মাধ্যমে ড্রোনের মতো অস্ত্রের সিগনাল ব্লক করা সম্ভব। দিক বদলে সক্ষম গোলাবারুদ লক্ষ্যবস্তু এলাকায় ঘুরে বেড়ায় এবং সুযোগমতো আঘাত হানে। ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় এই প্রযুক্তিগুলোর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।

ইডিএ জানায়, চুক্তিগুলোর আওতায় স্বল্প-মেয়াদী যৌথ ক্রয়, মধ্য-মেয়াদী আধুনিকীকরণ এবং দীর্ঘ-মেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে প্রকল্পগুলোর আর্থিক মূল্য বা সম্ভাব্য কোম্পানিগুলোর নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

এই উদ্যোগ ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতের উচ্চ-তীব্রতার যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে এই ধরনের যৌথ প্রকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

/এএ/
সম্পর্কিত
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: খামেনি
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
সর্বশেষ খবর
বাবা-মেয়েসহ ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত
বাবা-মেয়েসহ ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত
‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করবে’
‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করবে’
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ